গবেষণা উপকরণ পেলেন ৭ খুদে বিজ্ঞানী

টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট:: দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে এ বছর থেকে শুরু হয়েছে চিলড্রেন রিসার্চ  ফান্ড প্রোগ্রাম। এই ফান্ডের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ-১২শ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব গবেষণা প্রকল্পগুলিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এবং মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার (ম্যাসল্যাব) যৌথভাবে এ রিসার্চ ফান্ড প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ড-এর বিজয়ী শিক্ষার্থীদেরকে সবার সাথে পরিচিয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের গবেষণার জন্য উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। ম্যাসল্যাব-এ আয়োজিত এ আয়োজনে ফান্ড বিজয়ী শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করার জন্য উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. বি এম মইনুল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব এপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক ড. খন্দকার সামাহের সালাম এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাশরাফি বিন মোবারক।

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বিজয়ীদের সাথে তাদের নিজেদের গবেষণার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এছাড়া গবেষণা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করার পাশাপাশি বিজয়ীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তারা। কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কিভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করতে হয়,রিসার্চ পেপারে সব পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিখে রাখা, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য নির্ণয় করা, কিভাবে সবকিছুতেই বিজ্ঞান জড়িত এসব নিয়ে নানা রকমের আলোচনা হয়।

এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে প্রথমবারের মতো চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ডের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রায় দুই শতাধিক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের গবেষনাপত্র জমা দেয়। ফিজিকাল সায়েন্স, প্রাণী-বিজ্ঞান, টেকনোলজি এবং রোবোটিকস, শিক্ষা, কৃষি এবং পরিবেশ ও আবহাওয়া বিষয়ক গবেষণাপত্র জমা দেয় তারা। সেখান থেকে প্রথম পর্যায়ে বাছাই করা হয় ৬০ জনকে। বাছাইকৃতরা গবেষণা প্রস্তাবনা লেখা শেখার জন্য দুটি কর্মশালায় অংশ নেয়। এরপর তারা তাদের নিজেদের প্রস্তাবনা জমা দেয় বাজেটসহ। চূড়ান্ত পর্যায়ে বাছাই করা হয় সেরা ৭ জনকে, যাদের গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে চমৎকার সব আইডিয়া।

এদের মধ্যে ৫ জন মেয়ে এবং ২ জন ছেলে। তাদের অনেকেই দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ থেকে এসব গবেষণাপত্র পাঠিয়েছে।

সিলেটের মুনতাকা গবেষণা করতে চায় গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার কারন নিয়ে। চট্টগ্রামের অপূর্বা করতে চায় আয়োডিনের উপর তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে। তায়েব করতে চায় আইওটি বেসড হেলথ মনিটরিং নিয়ে যাতে রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রত্যাশা কাজ করতে চায় ক্যাকটাস লেদার নিয়ে। জয়ীতা বুড়িগঙ্গা নদীর পানির গুণগত মান পরীক্ষা করার জন্য আইডিয়া জমা দেয়। এর বাইরেও কেউ কেউ গবেষনা করতে চায় কোভিডের পর গণিত নিয়ে শিক্ষার্থীদের যেসব চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা নিয়ে। ইফার গবেষণার বিষয় নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সৌরকোষসমূহের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন। গবেষণার জন্য প্রাপ্ত উপকরণ এর সাহায্যে চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ড বিজয়ী শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের আইডিয়া নিয়ে গবেষণা করবে।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...