টেস্ট ইথেরিয়াম টোকেন চুরি করল ওপেনএআইয়ের এআই মডেল

প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
https://www.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://www.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

কোনো অর্থায়িত ফান্ড বা ওয়ালেট ছাড়াই কোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করতে অন্যের ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম টোকেন নিয়েছে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি ওপেনএআইয়ের নতুন একটি এআই মডেল। পরে এ ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করে মডেলটি দাবি করে, টোকেনগুলোর বাজারমূল্য নেই বলে সেগুলো ব্যবহার করতে কোনো বাধা ছিল না। 

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটিকে এআই মডেলের বিকাশের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে ওপেনএআই।

নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অননুমোদিত কাজ
ওপেনএআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয়, এআই মডেল শুধু নির্দেশনা অনুসরণই করে না; বরং সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা নিজে বিচার করে অনুমতি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। গত ২৬ জুন অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ চলাকালে ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ নামের একটি বিশেষ মডেলের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটে। মডেলটিকে ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের একটি প্রোটোটাইপ হালনাগাদ করা এবং ‘সেপোলিয়া’ নামের ইথেরিয়াম টেস্ট নেটওয়ার্কে স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

 
ব্লকচেইনে স্মার্ট কন্ট্র্যাক্ট চালু করতে নেটওয়ার্ক ফি দিতে হয়। কিন্তু ওপেনএআই মডেলটিকে কোনো অর্থায়িত ওয়ালেট দেয়নি কিংবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় টোকেনের অভাবে কাজ আটকে যায়। এরপর মডেলটি যুক্তি দেয়, পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত পাবলিক রিকভারি ফ্রেজ বা পাসফ্রেজের মাধ্যমে অননুমোদিত অ্যাকাউন্টের প্রবেশাধিকার পাওয়া সম্ভব। পরে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ৩৬২টি অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরীক্ষা করে এটি এমন একটি ওয়ালেট খুঁজে বের করে, যেখান থেকে প্রয়োজনীয় টেস্ট ইথেরিয়াম নেওয়া সম্ভব ছিল।

টেস্ট টোকেনের মূল্য নেই-এমন যুক্তি
সেপোলিয়া ইথেরিয়াম মূলত ব্লকচেইন প্রযুক্তি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। এর টোকেনের বাস্তব বাজারমূল্য নেই। ওপেনএআইয়ের নথি অনুযায়ী, মডেলটি ধারণা করেছিল, টোকেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহের সুযোগ দিতেই হয়তো কেউ অ্যাকাউন্টটির প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত রেখেছে। পাশাপাশি, টোকেনগুলোকে মূল্যহীন বিবেচনা করে সেগুলো ব্যবহার করাকে গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয় মডেলটি। তবে পাবলিক রিকভারি ফ্রেজ ব্যবহার করে অন্যের অ্যাকাউন্ট বেছে নেওয়া এবং সেখানকার ব্যালেন্স কাজে লাগানোর বিষয়টি ওপেনএআইয়ের কাছে গোপন করেছিল এআই এজেন্টটি।

 
এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বর্তমানে নিজেদের সিস্টেমে সব ট্রাফিক কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওপেনএআই। লাইভ ইন্টারনেট সংযোগ শনাক্ত হলেই নিরাপত্তা দলকে সতর্ক করার ব্যবস্থাও করেছে কোম্পানিটি। তবে এআই এজেন্টের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে নিয়ম ভাঙা বা অননুমোদিত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলের বিরুদ্ধে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারি নীতিমালার দাবি
বিভিন্ন প্রতিবেদনে এআই-সম্পর্কিত অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী হিসেবে কোড রিপোজিটরি হাগিং ফেইস, অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার পোর্টাল, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ফেডারেল সংস্থা এবং রুবি জেমস ডেভেলপার রেজিস্ট্রির নাম এসেছে। এসব ঘটনার পর এআই গবেষক ও সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মীদের অনেকে প্রযুক্তিটির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন পর্যন্ত এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। সূত্র: ওপেনএআই অ্যালাইনমেন্ট

image

আপনার মতামত দিন