পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালসেন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
https://www.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://www.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের পথ দেখানো বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালসেন চলতি বছরের পদার্থবিদ্যার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। মঙ্গলবার সুইডেনের স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

আইসকিউব পর্যবেক্ষণাগারে অবদান
বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া হালসেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের অধ্যাপক। মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের পাশাপাশি দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে স্থাপিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

 
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে হালসেনের নির্ণায়ক অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ বছরের পদার্থবিদ্যার নোবেল দেওয়া হয়েছে। তাঁর গবেষণা মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণাগুলোর উৎস সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা আরও স্পষ্ট করেছে।

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে গবেষণা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলজিয়ান-আমেরিকান কণা পদার্থবিদ হালসেনের গবেষণা মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির কণাগুলো কোথা থেকে আসে, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ মেরুর বরফের বিশাল স্তরকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্তের প্রযুক্তি ও গবেষণাপদ্ধতি উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য
পদার্থবিদ্যার নোবেল পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন, যা ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি। একাধিক বিজয়ী থাকলে নির্ধারিত অর্থ তাঁদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস
সুইডিশ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়। ডিনামাইট আবিষ্কারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ দিয়ে এ পুরস্কারের তহবিল গড়ে ওঠে। ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুরু হওয়া এ পুরস্কারের সঙ্গে পরে অর্থনীতির পুরস্কারও যুক্ত হয়।

 
পদার্থবিদ্যার নোবেল পুরস্কার সময়ের সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতিতে পরিণত হয়েছে। এর আগে আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি, পিয়ের কুরি, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও নিলস বোরের মতো বিজ্ঞানীরা এ পুরস্কার পেয়েছেন। গত বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরে ও জন মার্টিনিস। কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার নীতিগুলো বাস্তবে কার্যকর-এমন পরীক্ষামূলক প্রমাণের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়।

সামনে আরও নোবেল ঘোষণা
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার ধারায় পদার্থবিদ্যার পুরস্কারটি দ্বিতীয়। সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবারের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে নোবেল পদক তুলে দেবেন সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ। এরপর স্টকহোম সিটি হলে অনুষ্ঠিত হবে নৈশভোজ। সূত্র: রয়টার্স, এপি

image

আপনার মতামত দিন