টেকভয়েস ডেস্ক

গ্রাহকদের লেনদেনকে আরো বেশি সহজ ও নিরাপদ করতে বিশ্বমানের অ্যাপ চালু করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই অ্যাপের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করে দেন বিকাশের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বিকাশের যাত্রা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত পথপাড়ি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কামাল কাদীর। এরপর অ্যাপ ও তার ব্যবহার নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করেন প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা মীর নওবত আলী। এসময় বিকাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

কামাল কাদির বলেন, ‌‘ইউএসএসডি (আনস্ট্রাকচার্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডাটা) পদ্ধতির লেনদেন সুবিধা কার্যকর রেখেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে নানা সৃজনশীল ফিচার সমৃদ্ধ বিকাশ অ্যাপ। স্মার্টফোনের ব্যবহার ও ইন্টারনেটের ব্যপ্তি বাড়ায় অ্যাপ নিয়ে আসা হয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে এ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল এটি গুগলে আপলোড করা হয়।’

বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী বলেন, ‘অ্যাপটি এরইমধ্যে ১৪ লাখ ডাউনলোড হয়েছে। খুব স্বল্প অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখেই বিকাশ অ্যাপে ইংরেজি ছাড়াও বাংলা ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে।’

মীর নওবত আলী জানান, ছবি এবং লেখা সমৃদ্ধ এই অ্যাপে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্স বা মৌখিক নির্দেশনার সুবিধা আছে। যে কোনো লেনদেনের জন্য কি পদক্ষেপ নিতে হবে তা সুনির্দিষ্ট ধাপে গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় নির্দেশনা দেয় এই অ্যাপ। এখন লেনদেনের সময় প্রাপকের নম্বর টাইপ করার প্রয়োজন হবে। বিকাশ অ্যাপে সেন্ড মানি, বাই এয়ারটাইম (মোবাইল ব্যালেন্স রির্চাজ) এবং রিকোয়েস্ট মানি লেনদেনের সময় সরাসরি মোবাইলের কন্ট্যাক্ট লিস্ট বা ফোনবুক থেকে নম্বর নেওয়া যাচ্ছে। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তিনি জানান, বিকাশ অ্যাপে নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পিন (গোপন নম্বর) ব্যবহার ছাড়া এই অ্যাপের কোনো কার্যক্রম সম্ভব নয়। প্রতিবার অ্যাপ ব্যবহারের শুরুতে এবং যেকোনো লেনদেন করতে পিন ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে ফোন হারিয়ে গেলেও বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া প্রথমবার লগ ইন করার সময় সঠিক পিন নম্বর দেওয়ার পর গ্রাহকের বিকাশ নম্বরটিতে একটি কোড যাবে এসএমএস’র মাধ্যমে। যেটা সঠিক ভাবে না দিতে পারলে অ্যাপে ঢোকা যাবে না।

বিকাশের চিফ এই মার্কেটিং অফিসার জানান, কেনাকাটাকে আরো সহজ এবং ঝামেলামুক্ত করতে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ছজ কোড স্ক্যান সুবিধা। যে কোনো সময় অনলাইন এবং অফলাইন কেনাকাটার সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া দেশের যে কোনো প্রান্তে বিকাশ এজেন্টদের কাছ থেকে ক্যাশ আউট করতেও যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় ছজ কোড। বর্তমানে ৩০ হাজার দোকানে কোড স্ক্যান সুবিধা নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রতিটি অ্যাকাউন্ট প্রতিটি গ্রাহকের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করছে বিকাশ অ্যাপে। গ্রাহক নিজের ছবি, নাম বা পছন্দ অনুযায়ী নামে অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি এখানে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। এছাড়া প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড মোবাইলের ব্যালেন্স রিচার্জ করার সময় টাকার পরিমাণ ভ্যালু শর্টকাট থেকে বেছে নিয়ে যে কোনো ধরনের ব্যালেন্স রির্চাজ এখন অ্যাপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে।

বিকাশের অ্যাপে যুক্ত হয়েছে সর্তকতার এক অনন্য সুবিধা। কন্ট্যাক্ট লিস্ট থেকে নম্বর নিয়ে পেমেন্ট, এয়ারটাইম কেনা, সেন্ড মানি করার মত যে কোনো পদক্ষেপের শেষ ধাপে যুক্ত হয়েছে ট্যাপ অ্যান্ড হোল্ড বাটন। সব ধাপ সম্পন্ন করে কয়েক সেকেন্ডের জন্য এই বাটনটি ট্যাপ করে রাখতে হবে। ঠিক সেই মুহূর্তেও যদি মনে হয় কোথাও ভুল হচ্ছে তাহলে ছেড়ে দিয়ে আবার পূর্বের ধাপগুলোতে ফিরে গিয়ে সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এখন সারা মাসের আর্থিক হিসাব থাকবে নিবন্ধিত। অর্থাৎ কোথায় কবে কি খরচ করা হয়েছে তার মাসিক হিসাব থাকবে। প্রতিমাসে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হয় এমন কিছু বিল বা পেমেন্ট থাকে। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এখানে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপ গ্রাহককে বিল দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

যেসব এজেন্ট থেকে নিয়মিত ক্যাশ আউট করা হয় বা যেসব দোকানে নিয়মিত বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করা হয় সেগুলোর নম্বর বিকাশ অ্যাপে সংরক্ষণ করে রাখার সুবিধাও রয়েছে।

বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে একটি অনন্য ফিচার ‘রিকোয়েস্ট মানি’। এর মাধ্যমে গ্রাহক তার জরুরি প্রয়োজনে টাকা চেয়ে পরিচিতজনের কাছে অনুরোধ পাঠাতে পারছেন। যে গ্রাহককে রিকোয়েস্ট পাঠানো হবে তিনি যদি চান তাহলে সহজেই টাকা পাঠিয়ে দিতে পারবেন রিকোয়েস্টকারীকে। অথবা রিকোয়েস্ট বাতিলও করে দিতে পারবেন।

কর্মকর্তারা জানান, বিকাশের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা অবিচল থাকায় তাদের জন্য অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। ছবি ও রেখা সমৃদ্ধ অ্যাপে নির্ভুলভাবে লেনদেন করা সম্ভব হবে। গুগল অ্যাপ স্টোরে গিয়ে বিনামূল্যে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে যেকোনো স্মার্টফোনে।

টেকভয়েস/এসডি/আরপি

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...