ইন্টারনেট সেবাকে করমুক্ত রাখার আহ্বান

টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট:: ইন্টারনেট মডেম, ইন্টারনেট ইন্টারফেস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার ব্যাটারিসহ সকল ইন্টারনেট ইকুইপমেন্টের বর্তমান আরোপিত কর ১০ শতাংশ। আমরা এই কর শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকারকে বিনীত অনুরোধ করছি।

বুধবার (২১ এপ্রিল ) দুপুরে বাংলাদেশে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গ্রাহকদের প্রস্তাব নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রার্থী ও সরবরাহের ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক প্রতিবন্ধক কর হার। নানাবিধ হার বিদ্যমান থাকায় গ্রাহকরা উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও লক্ষ করা যায় ভ্যাট ১৫ শতাংশ। বাস্তবে ইন্টারনেটের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কর সম্পৃক্ত থাকায় কর অনেক বেশি।

দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে উৎসাহিত করতে কর হার কমানোর দাবি করেন। তিনি বলেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে উৎসাহিত করতে বর্তমানে ৫% হার বিদ্যমান রয়েছে। তা আগামীতেও বহাল রাখতে সুপারিশ করছি। সেই সাথে আমদানির ক্ষেত্রে ফরহাদ ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫% করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিকভাবে সর্বমোট আমদানির কর দাঁড়ায় ৫৭%। আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে কম মূল্যে হ্যান্ডসেট সরবরাহ করতে শর্তসাপেক্ষে অপারেটরদের সংযুক্তসহ এই গরমে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সুপারিশ করছি।

সংগঠনটির সভাপতি বলেন, এক্ষেত্রে ভ্যাট ২৯ শতাংশ যাহা আরো কমিয়ে আনা যেতে পারে। বর্তমানে Onu এবং Olt ওপর ট্যাক্স ৩৭ শতাংশ ও ৫৯ শতাংশ আরোপিত রয়েছে, যা আইসিটি ও ইন্টারনেট খাত সম্প্রসারণে প্রধান প্রতিবন্ধক। Onu এবং Olt মূলত প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাহক ব্যবহার করে থাকে তাই একহাতে উপর ট্যাক্স ও ইন্টারনেট মডেম এর মত করা হলে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিটক ও বিটিসিএলের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনতে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় টেলিকম অপারেটর টেলিটককে প্রতিযোগিতায় আনতে আরো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ অস্বচ্ছতা আনয়নে প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করছি। বিটিসিএলকে আরো গতিশীল করে এর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে এর সেবা সহজলভ্য করে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাতে আমরা সুপারিশ করছি এবং এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বন্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যে জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভরসার মাধ্যম হচ্ছে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা। তাই এ সেবার বাজেট জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপির প্রায় বর্তমানে ৭% অর্জিত হয়। এর পাশাপাশি যদি আমরা খাতসংশ্লিষ্ট ইকমার্স, টেলিমেডিসিন সামগ্রিক হিসাব করি সফটওয়্যার আমদানি-রপ্তানিসহ যোগ করলে দাঁড়াবে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ এতে কোন সন্দেহ নেই। একহাতে গ্রাহকদের বিনিয়োগ সবচাইতে অগ্রগামী তাই আসন্ন বাজেটে গ্রাহকদের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা দুটোই বাজেটে পরিলক্ষিত হবে বলে আমরা আশা করি।

মহিউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ও প্রসার নিশ্চিত করতে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাত অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে মুঠোফোন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ছাড়িয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ৩২ লাখ। ২০০৮ সালে যেখানে মাত্র ৮ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো এখন করোনা মহামারীর মধ্যে তা দাঁড়িয়েছে ২২০০ জিবিপিএস। কাজেই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের বাজেটের কথা বিবেচনায় নিয়ে কর পরিবর্তনে বেশ কিছু সংস্কার অবশ্যক।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...