ঈদ-দ্বিতীয় পর্ব
লেখক সুরাইয়া শারমিন (ছবি: সংগৃহীত)

হাবিবউল্লাহ গরুর হাট থেকে তার বউকে কল দিয়ে হিমুকে চায়। হাবিবউল্লাহ মেয়েকে ভিডিও কল দিয়ে গরু দেখায় আর বলে মা হিমু তোমার যেই গরুটা পছন্দ হবে সেই গরুটাই কিনবো আমি। হিমু খুশিতে লাফায় আর বলতে থাকে বাবা ওই লাল গরুটা আমাদের জন্য কিনো। হাবিবউল্লাহ হাসে একটা কালো গরু দেখায় বলে এটা কিনি? হিমু হাসে আর বলে বাবা এটাও কিনো।

আসলে মেয়ে এত বড়ো বড়ো গরু কখনো দেখে নাই। গ্রামের হাটে এত বড় গরু উঠে না। গ্রামে এত দামের গরু কেনার লোক নাই। হাবিবুল্লাহর মনটা ভালো হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে সে সত্যি সত্যি তার মেয়ে হিমুর জন্য গরু কিনতে এসেছে। হাবিবউল্লাহ এবার একটার পর একটা গরু মেয়েকে দেখাতে লাগলো আর হিমুও নতুন গরু দেখে আর হাত তালি দেয়, নতুন গরু যেটা দেখে সেটা দেখালেই বলে, বাবা এটাও কিনো।

দারোয়ান আব্বাস প্রথমে একটু বিরক্ত ছিল হাবিবউল্লাহর উপরে। সে ভাবতে ছিলো গরু কিনতে আইছি গরু যত তাড়াতাড়ি কিনতে পারবো তত তারাতাড়ি বাসায় চলে যাওয়া যাবে। অযথা এই গরু ওই গরু দেখে সময় নষ্ট। তার পরে একটু পর পর মেয়ের সাথে কথা।

হাবিবউল্লাহ যখন মেয়েকে দারোয়ানের দিকে মোবাইল দিয়ে বলল মা তোমার আব্বাস চাচাকে সালাম দাও।আর হিমুও দারোয়ান কে সালাম দিয়ে বলে চাচা আমার জন্য একটা সুন্দর গরু কিনবেন কিন্তু। তার পর থেকে হিমুর গরু পছন্দ করা আর কথা বলা নিয়ে আব্বাস খুব মজা পেতে শুরু করলো গরু কেনা নিয়ে।

>> এই লেখকের লেখা আরো পড়ুন: ঈদ (২য় পর্ব)

গরু কিনে বসায় ফিরতে ফিরতে রাত হলো। গরু সবার খুব পছন্দ হলো। আব্বাস বার বার সবাইকে বলতে লাগলো। গরু কেনা হইছে হাবিব ভাইজানের মেয়ে হিমুর পছন্দে। বাচ্চারা ফেরেস্তা। তাগো পছন্দ সবার পছন্দ হবে। আব্বাসের কথায় হাবিবুল্লাহর চোখ ভিজে যাচ্ছে বার বার। গরু কেনার সব গল্প আব্বাসের করা শেষ খালাম্মার সাথে। আব্বাস হঠাৎ করে বলে বসে একটাই দুঃখ হিমু আম্মাজান তার পছন্দের কেনা গরু কোরবানির সময় থাকতে পারবো না!

>> এই লেখকের লেখা আরো পড়ুন: ঈদ (১ম পর্ব)

এই কথা শুনে হাবিবউল্লাহ আর তার আবেগ ধরে রাখতে পারলো না। হাবিবুল্লাহ খালাম্মাকে বলে তাকে থাকতে দেওয়া গেস্ট রুমে চলে আসে। মনটা আবার খারাপ হয়। রাতে তেমন কিছু না খেয়েই ঘুমাতে চলে আসে।

আসলে মেয়ে এত বড়ো বড়ো গরু কখনো দেখে নাই। গ্রামের হাটে এত বড় গরু উঠে না। গ্রামে এত দামের গরু কেনার লোক নাই। হাবিবুল্লাহর মনটা ভালো হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে সে সত্যি সত্যি তার মেয়ে হিমুর জন্য গরু কিনতে এসেছে। হাবিবউল্লাহ এবার একটার পর একটা গরু মেয়েকে দেখাতে লাগলো আর হিমুও নতুন গরু দেখে আর হাত তালি দেয়, নতুন গরু যেটা দেখে সেটা দেখালেই বলে, বাবা এটাও কিনো।

>> এই লেখকের আরো লেখা পড়ুন: একটি তুলসী গাছের গল্প

সকাল বেলা জাহিদ সাহেব হাবিবউল্লাহর সাথে কথা বলে। তার গ্রামের বাড়ি যাওয়া ও আসার কি ভাবে করে, কি ভাবে ঢাকা আসলে কতক্ষণ লাগে, কোরবানির লোক ঠিক করা হয়েছে নাকি সেই সব বিষয় নিয়ে।

হাবিবউল্লাহ দুপুর বেলা থেকে মুন্নীকে কয়বার কল দিয়ে পায় নাই। ঈদের বাজার কি করছে জানা হলো না এখনও। হাবিবউল্লাহ বিকাল বেলা গরুটাকে খাওয়াতে গিয়ে দেখে দারোয়ান তার রুমে নাই। গেট ভেতর থেকে তালা দেওয়া। হাবিবউল্লাহ একটু অবাক হয়। তার পর ভাবে হয়তো কোন কিছু কিনতে গেছে বা খালাম্মা দারোয়ানকে কোথাও পাঠিয়েছে যেহেতু বাসার ভেতর দিক দিয়ে তালা দেওয়া।

>> এই লেখকের লেখা আরো পড়ুন: সিদ্ধান্ত

বিকালের চা দেওয়ার সময়, কাজের মেয়েটা কি ভাবে যেন হাসতেছিলো হাবিবউল্লাহকে দেখে। কাজের মেয়ের আচরণে হাবিবউল্লাহ একটু বিরক্ত হয়। রাত আটটা বাজে। বেল বাজার শব্দে কাজের মেয়েটা খালাম্মাকে বলে, আম্মা আব্বাস ভাই মনে হয় আইছে। বলেই এক দৌড়ে গেট খুলতে চলে যায়।

আমিও বের হলাম আমার রুম থেকে কারণ জাহিদ স্যার আমাকে বাড়ির দায়িত্ব দিয়ে গেছে। বাড়ির বারান্দার সব লাইট জ্বালিয়ে দিয়েছে কাজের মেয়েটা। কে ঢুকছে লাল জামা পরে আমার হিমুর মতো!হাবিবউল্লাহ দৌড়ে যায় গেটের দিকে। হাবিবউল্লাহ মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। সেদিকে হিমুর খেয়াল নাই। হিমু হাবিবউল্লাহকে বলছে আব্বু আমি আমার ব্যাগে করে আমার গরুর জন্য আমাদের বাড়ির ঘাস নিয়ে এসেছি।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে জাহিদ সাহেবের মা ভাবছে। এত অল্পতে মানুষকে এত খুশি করা যায়! আহা এটা মনে হয় আমার দেখা সবচেয়ে বেশি আনন্দের দৃশ্য। ঈদের খুশি আজই শুরু হয়ে গেছে বাসায়। জাহিদকে এখনই ফোন দিয়ে বলতে হবে হাবিবউল্লাহর পরিবার ভালোভাবে ঢাকায় এসেছে। মানে আমাদের বাসায় পৌঁছে গেছে। আব্বাস সুন্দরভাবে গাবতলী থেকে ওদের বাসায় নিয়ে এসেছে।

লেখক : সুরাইয়া শারমিন, উদ্যোক্তা, স্বত্বাধিকারী, অনলাইন প্লাটফর্ম ‘সুরাইয়া’।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...