লাখপতি হলেন ‘মা ফ্যাশন’ এর স্বত্বাধিকারী রুবাইয়া জাহান রুপা
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: নারী উদ্যোক্তাদের জনপ্রিয় ফেসবুক প্লাটফর্ম উইম্যান অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) গ্রুপের কল্যাণে লাখপতি হয়েছেন ‘মা ফ্যাশন’ এর স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা রুবাইয়া জাহান রুপা।

তিনি এপ্লিক তৈরি বেডশিট, কুসন কভার, এপ্লিক থ্রিপিচ, শাড়ি, মেক্সি সেল করেছেন মোট ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আবার নতুন অর্ডার এসেছে প্রায় ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

রুপা থাকেন বগুড়াতে। নিজের হাতে তৈরি ড্রেস পরার ইচ্ছেটা ছিল তার ছোটবেলা থেকেই। মূলত এই ইচ্ছা শক্তির কারণেই অনুপ্রাণিত হয়ে স্বপ্নটাকে আরো বড় করে ভাবতে শুরু করেন পরিণত বয়সে। তিনি এখন নিজের হাতে ড্রেস তৈরি করেন, মানুষকে দিয়ে তৈরি করান আর সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করে সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন।

বর্তমানে দেশীয় পণ্য নিয়ে ভাল সাড়া পাচ্ছেন রুপা। এখন এপ্লিক নিয়ে কাজ করেছেন। এগুলো হলো- এপ্লিক বেডশিট, শাড়ি, ওয়ানপিস, টুপিস, থ্রিপিস, কুসন কভার, পাঞ্জাবি, কটি, বেবিদের জামা ইত্যাদি।

মায়ের আদর্শে বড় হওয়া সংগ্রামী তরুণীটি বিয়ে হয়ে তার সমস্ত ভাবনা সংসার ঘিরেই। সংসারের সব কিছু সামলিয়ে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্লের ব্যবসাটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রথম অবস্থায় মা ফ্যাশনে মাত্র ১০ জন কর্মী কাজ করতেন। এখন কাজ করছেন ৭০-৮০ জন কর্মী। এখানে সব ধরনের পরিবারের মেয়েরাই কাজ করছেন। তারা এখানে কাজ করে তাদের পরিবারকে সুন্দরভাবে আর্থিক সহযোগিতা করছেন।

রুপা জানান, ফেসবুকের কল্যাণে ১০ মাস আগে উই গ্রুপের সাথে পরিচয় হয় তার। প্রথমে গ্রুপের মডারেটর রাজিব আহমেদ স্যারের দেয়া পোস্টগুলো পড়তেন। গ্রুপের নিয়ম কানুনগুলো অনুসারে কমেন্ট করতেন। এই গ্রুপে এসেই তার ই-কমার্সের বিভিন্ন বিষয়ে জানার সুযোগ হয়। ই-কমার্স কী, কি করে ব্যবসা করতে হয়, কী করলে ব্যবসার প্রচার, প্রসার বিক্রি বেশি করা যায়, কোন ব্যবসা কোনো পদ্ধতিতে করলে ক্লায়েন্টদের ধরে রাখা যায় প্রয়োজনীয় সব কিছু।

রুপা তার এই লাখপতি হওয়ার পুরো কৃতিত্ব দিতে চান উই গ্রুপকে। বিশেষ করে রাজিব স্যারকে। যার গাইডলাইন আর অনুপ্রেরণামূলক পোস্টের কারণে আজ তিনি এত বেশি সেল করতে পারছেন।

তিনি বলেন, আমার পণ্য বিক্রিতে কয়েকজন আপুরা বেশি হেল্প করেছেন। তাদের মধ্যে এক আপু কাতারে থাকেন তিনি আমার রিপিট কাস্টমার। আরেক জন্য থাকেন ঢাকাতে, এক জন রাজশাহীতে। তারাই আমার কাপড় পাইকারিভাবে কিনেছেন। এখন আবারো অর্ডার পেয়েছি। আশা করছি সবার সহযোগিতায় শিগগিরই দুলাখ ছাড়িয়ে যেতে পারবো। এ সব কৃতিত্বের জন্য উই গ্রুপের সকল সদস্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আর অশেষ কৃজ্ঞতা।

তিনি আরো বলেন, আর যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন রাজীব আহমেদ স্যার। উনাকে ধন্যবাদ দিলেই যথেষ্ট হবে না। অন্তর থেকে স্যারকে জানাই অনেক কৃতজ্ঞতা।

এই অর্জনে মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুপা জানান, যে কোনো অর্জনই অনেক আনন্দের। ভালোলাগার অনুভূতির। এটা অনুভবের। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তবে বলবো এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তির। আমি উই গ্রুপে আছি ১০ মাসের মতো হবে। নিজের মতো করে পোস্ট করিছি। গ্রুপের নিয়ম কানুন ফলো করি। সবসময় পোস্ট করি। আবারো সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

‘মা ফ্যাশন’ রুপার সন্তানের মতো। মেয়েকে যেমন আদর যত্নে ভালোবাসায় বড় করছেন। ঠিক তেমনি ‘মা ফ্যাশন’ উদ্যোগটাও অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষা ও অনেক সাধনা করে আজ এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। এর প্রতি রয়েছে তার সন্তানতুল্য ভালোবাসা। এই উদ্যোগটাকে নিয়ে অকে দূর যাওয়া পরিকল্পনা রয়েছে রুপার। ‘মা ফ্যাশন’ এর প্লাফর্মের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...