ওয়ার্ল্ড ফেমাস কোম্পানির রিকুয়ারমেন্ট অনুসারে রিসোর্স তৈরি করবো

উজ্জ্বল এ গমেজ

সবাই স্বপ্ন দেখেন বড় হওয়ার, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার।কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, আন্তরিকতা, সততা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে সে স্বপ্নও একদিন পূরণ হয়। কিন্তু অন্যকে স্বপ্ন দেখানো এবং সেই স্বপ্ন পূরণে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে সবাই পারেন না। সেই কাজটা পেরেছেন একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা। তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর সততা তাকে আজ নিয়ে গেছে সাফল্যের শিখরে। তিনি হলেন ক্রিয়েটিভ আইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন।

যার জীবনের মন্ত্রই ছিল এমন কিছু গড়ার যাতে শুধু তিনি একা নন সংশ্লিষ্ট সকলেই লাভবান হতে পারেন। তাই চলার পথে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য গুণগ্রাহী। তার শিক্ষার্থীরা আজ সফল উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, আউটসোর্সার ও ইন্ডাস্ট্রি সেরা সফল পেশাজীবী। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিটিউট ও ক্রিয়েটিভ ক্লিপিং পাথ যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো বেকার যুবকের। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পেছনে প্রতিটি মুহূর্তে রেখে যাচ্ছেন উল্লেখযোগ্য অবদান।

২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন মনির হোসেন। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, ছেলে পড়াশোনা করবেন, একটা ভাল চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। এইচএসসি পাস করে পড়াশোনা করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন মনির।মার্কেটিংয়ে পড়াশোনা শুরু করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। যদিও টিউশনি তার একদম পছন্দ ছিল না তাও টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ চালাতেন তিনি।

২০০৪ সালে অ্যাপ টেক এরিনা মাল্টিমিডিয়া থেকে গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়া ডিপার্টমেন্টে একটা ডিপ্লোমা কোর্স করা শুরু করেন তিনি। গ্রাফিক্সের ভুবন তাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে । বাহ! এত সুন্দর ডিজাইন হয়! এটা তো আমি পারবোই পারবো। আমি তো মার্কেটিং পড়াশোনা করেছি। আমার বিষয় এটাই। আমাকে পারতেই হবে। নতুন স্বপ্ন আঁকলেন তিনি। পড়াশোনা করছেন আর স্বপ্ন দেখছেন আইসিটি সেক্টরের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার।

২০০৬ সালে অ্যাপ টেক এরিনা মাল্টিমিডিয়ায় ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। কাজে আন্তরিক ও বিশ্বস্ত হওয়ায় সিনিয়র ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে দ্রুতই পদন্নোতি হয় তার। গ্র্যাজুয়েশনও শেষ হয় সে সময়ের মধ্যেই। সে সময় অ্যাপ টেক প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির শিখরে নিতে বিভিন্ন ধরনের স্কিল ডেভেলপ করলেন। সেই সাথে প্রতিষ্ঠান চালানোর সব ধরনের নিয়ম-কানুন শিখে ফেলেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

২০০৮ সালের জুন মাসে উদ্যোক্তা হিসেবে আইটি সেক্টরে নিজ কার্যক্রম শুরু করলেন। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৮ নম্বরে অর্কিট প্লাজায় ১ হাজার স্কয়ারফিটের অফিস নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিটিউটের। শুরুতে সার্ভিস ওরিয়েন্টেড প্লাটফর্ম করলেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। সেই সময়ে শুরু হয় সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এবং সেই সাথে শুরু হলো তার আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে অবদান রাখা।

মার্কেটিংয়ে পড়ে নিজ প্রতিষ্ঠান শুরু করাটা ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং। জমানো টাকা দিয়েই শুরু করেন স্বপ্নের শুভযাত্রা। কিছুদিন কাজ করার পরে বুঝতে পারেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে গেলে আইটিতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রচুর চাহিদা তৈরি হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ আইটি রিসোর্স আমাদের দেশে নেই। অনুপ্রেরণার শক্তি ও মনের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল তার।

২০০৯ সাল। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এবং অ্যানিমেশন এই তিনটি কোর্স চালু করা হলো। আইটি ট্রেনিং এবং আইটি খাতে ডেভেলপমেন্ট দুটা বিষয় এক সাথে নিয়ে এগিয়ে চলে ক্রিয়েটিভ আইটি। শুরুতে পাঁচজন কর্মী ও সহকর্মীকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রেনিংয়ে যা শেখানো হয় তা প্রায়োগিক জ্ঞানে মার্কেটের সাথে সরাসরি কানেক্ট করে একজন শিক্ষার্থীকে কমার্শিয়ালি এনরোল করানো হয়। প্রথম থেকেই সব বিষয়ে কোয়ালিটি এনসিউর করতে ভীষণ মনোযোগী হলেন মনির হোসেন।

শূন্য থেকে যে কোনো উদ্যোগকে একটা প্লাটফর্মে দাঁড় করাতে এবং একটা কর্পোরেট লেভেলে নিয়ে যেতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ক্রিয়েটিভ আইটিতে প্রথমে ১৮ ঘণ্টা করে সময়ে দিয়েছেন মনির। ক্লাস মেকিং, পলিসি মেকিং, মার্কেটিং, অফিস মেনেজমেন্ট নিজেদের উৎকর্ষতা সাধনে নিবিড় সময় দিলেন তিনি। ধীরে ধীরে ক্রিয়েটিভ আইটির নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা উন্নিত হয় ৫০ জনে এবং নতুন কর্মভুবনে ৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যেই নিজেদের কর্মে আলোকিত করেছে ক্রিয়েটিভ আইটির উদ্যোগ।

বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি মিনিস্ট্রি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের সাথে কাজ করা শুরু হলো ট্রেনিং এবং সার্ভিসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিপার্টমেন্টের সাথে একাডেমিক পার্টনারশীপে কাজ করাটাও প্রতিষ্ঠানটির সফলতার পথে অন্যতম একটি অর্জন।

২০১৫ সাল। তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগের জন্য ইন্টান্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্টডাইজেশনের (আইএসও) পক্ষ থেকে দেয়া হয় সনদ। এই প্রাপ্তি মনির হোসেনের মনোবলকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুন। ২০১৯ সালে ১১ বছরের অর্জনে ক্রিয়েটিভ আইটি এখন ২০ হাজার স্কয়ারফিটের একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট মাল্টিমিডিয়া, এনিমেশন এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদী ট্রেনিংসহ মোট ২১টি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্রিয়েটিভ আইটির প্রধান কার্যালয়টি ঢাকায় ধানমন্ডিস্থ মমতাজ প্লাজার ৫ম তলায়। চট্টগ্রাম ও খুলনায় এর দুটি শাখা রয়েছে। সম্প্রতি ধানমন্ডিতেই আরেকটি নতুন ক্যাম্পাসের যাত্রা শুরু হয়েছে।

মনির হোসেন বলেন, আমরা চাইলে হয়তো এতো দিনে সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির শাখা চালু করতে পারতাম। আসলে ব্যবসার ক্ষেত্রে টাকাটাই মুখ্য নয়, মানুষের জন্য, জাতির জন্য ভাল কাজ করাটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। দিন শেষে আমি যদি অনেক টাকার মালিক হই কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে শতভাগ সন্তুষ্ট না হতে পারি, তাহলে সে ক্ষেত্রে টাকা আমাকে মনের আত্মতৃপ্তি দেয় না। প্রতিষ্ঠানটির বয়স ১১ বছর। এতো দিন আমরা ঢাকায় প্রধান কার্যালয় থেকেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এখন ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিতে চট্টগ্রাম ও খুলনায় এর দুটি শাখা খোলা হয়েছে। ক্রিয়েটিভ আইটির মটো হচ্ছে কোয়ালিটিফুল স্কিলড ডেভেলপ করা।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্য দেশের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাদের সাফল্যে ইন্ডিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজজিল্যান্ড, ইতালি, ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাঙালিরা অনলাইনে স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য কোর্স চালু করার অনুরোধ করেন। তারই প্রেক্ষিতে চালু করা হয় অনলাইন প্লাটফর্ম ‘ক্রিয়েটিভ ই-স্কুল’। যার মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ এই প্লাটফর্মে আইটি ও আইসিটিতে ট্রেনিং নিতে পারবেন।

একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটিতে আসলেই যে তাকে শুধু ট্রেনিং করিয়ে দেয়া হবে ক্রিয়েটিভ আইটি এ ত্বত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। ক্রিয়েটিভ আইটির কনসার্ন হচ্ছে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যতটা সম্ভব আন্তরিকভাবে মনিটরিং করে যত্নসহকারে হাতে-কলমে শেখানো এবং কোর্স শেষে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া।

শিক্ষার্থী ক্লাশ করে বাসায় গিয়ে প্র্যাক্টিস করার সময় যেসব সমস্যায় পড়ে তা সমাধানের জন্য ক্রিয়েটিভ আইটির রয়েছে ২৪ ঘণ্টা টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিম। যে কোনো সময় যে কোনো সমস্যায় শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে সেবা দেয়া হয়।

এছাড়াও শিক্ষার্থী ওয়ার্ল্ড মার্কেটে কাজ পাওয়া পর্যন্ত এর পরে কাজ করতে গিয়ে যে কোনো সমস্যায় এই টিমটি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকে।

পাঁচজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা আইটি ইনস্টিটিউটটির কর্মী সংখ্যা আজ ৩৫০ জন।

প্রতিষ্ঠানটি ১১ বছরে ৩০ হাজারেরও বেশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলেছে আইসিটি খাতে। তৈরি করেছে সেরা উদ্যোগের দক্ষ কারিগর, আইটি উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, আউটসোর্সার। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ লোকাল মার্কেটে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। ৬০ শতাংশ দেশে বসে দেশের বাইরের কাজ করছেন। বর্তমান সময়ে দেশের বাইরের রেমিটেন্স আয়ের ক্ষেত্রে এই এক্সপার্টরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। এদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ আইটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করছেন, কেউ আবার অ্যান্টারপ্রেণার হচ্ছেন।

নারীদের আইটিতে স্কিলড ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ নজর দিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে ১০০ জন নারীকে স্কলারশীপের অধীনে ফুল ফ্রিতে গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইন বিষয়ে ট্রেনিং দেয়া হয়। সেই ১০০ নারীর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ নারী এখনো পর্যন্ত দেশে ও দেশের বাইরে সফলভাবে কাজ করছেন।

২০১৫ সালে সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধীদের মধ্য থেকে ২৫ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের বেছে নিয়ে স্কলারশীপের অধীনে তাদের গ্রাফিক্স ডিজাইনে ট্রেনিং দেয়া হয়। সেখান থেকে ১৮ জনকে ক্রিয়েটিভ আইটিতে চাকরির সুযোগ দেয়া হয়। এখনো পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১৫ জন চার বছর ধরে সফলতার সঙ্গে চাকরি করছেন।

কাজ করলে সময় এমনিতেই কেটে যায়। যারা যত বেশি কাজ করেন তারা তত আনন্দে থাকেন। বিষয়টিকে নিয়ে বয়স্কদের নিয়ে আইটি খাতে যোগ করেছেন নতুন স্বপ্ন। রাজধানীর বয়স্ক অবসরপ্রাপ্তদের এক ঘেয়েমিপূর্ণ সময়গুলোকে আনন্দময় করে তুলতে স্কলারশীপ দিয়ে টেকনোলজি শেখানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। যাতে তারা কাজ না থাকলেও অনলাইনে কাজ তৈরি করে বাকি জীবনটা আনন্দে কাটাতে পারেন। ধানমন্ডি ৮ নম্বর লেকপার্ক থেকে খুঁজে খুঁজে ২০ জনকে নিয়ে একটা ব্যাচ শুরু করা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জন এখন গ্রাফিক্সি ডিজাইন শিখে মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন।

মনির হোসেনের মতে, আইটি স্কিলড ডেভেলপমেন্টের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো এখানো পর্যন্ত আমরা শিক্ষার্থীকে আইটি স্কিল সম্পর্কে প্রোপার গাইডলাইন দিতে পারিনি, এমনকি প্রোপার অ্যাওয়ানেসও ডেভেলপ করতে পারিনি। এখনো আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা আইটি সেক্টরে কাজ করতে ফিল্যান্সিং শিখতে চায়। ফিল্যান্সিং শেখার কিছুই নেই। ওয়ার্ল্ড মার্কেটে কি ধরনের কাজ আছে, আমি কোন ধরনের কাজ পছন্দ করি সে অনুযায়ী স্কিলড ডেভেলপ করার পর ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হয়। কারণ ফিল্যান্সিং মানে মুক্তপেশা।

একজন রিক্সাওয়ালাও তো মুক্তপেশাজীবী। তারাও ফিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। এখন রিক্সাওয়ালা যদি বলেন আমি ফিল্যান্সিং শিখবো বা একজন মানুষ যদি রিক্সা চালানোর জন্য ফিল্যান্সিং শিখতে চায়, এর কি কোনো প্রয়োজন আছে? না। আগে আমাকে রিক্সা চালানো শিখতে হবে। পরে আমি ফিল্যান্সারের কাজ করবো, না কোনো মানুষের হয়ে ড্রাইভিং কাজ করবো সেটা নিজের ব্যাপার। উবার, পাঠাও সহজের ড্রাভিংয়ের বেলায়ও একই কথা। আগে আমাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমি কোথায় কাজ করবো, লোকাল মার্কেটে, না ওয়ার্ল্ড মার্কেটে।

প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন উদ্যমী এই উদ্যোক্তা। তার ভাষ্য, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমি ফোরামের প্রতিবেদনের তথ্য মতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জিডিভিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখার ২৪টা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হবে আইটি সেক্টর। তাই আমাদের আইটিতে আরো বড় জব সেক্টর তৈরি করতে হবে। এখনো পর্যন্ত আমরা কাজ করছি লোকাল কোম্পানিগুলোর সাথে। আমাদের রিসোর্সদেরকে প্লেসমেন্ট করছি মার্কেটপ্লেস আর লোকাল কোম্পানিতে।

আমাদের এখন টার্গেট ইন্ডিয়ার মতো করে কাজ করতে। ওয়ার্ল্ড ফেমাস কোম্পানিগুলোকে তারা তাদের রিসোর্স দিচ্ছে। এখন থেকে আমরাও সরাসরি গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের রিসোর্স দেব। ওই সব প্রতিষ্ঠানের রিকুয়ারমেন্ট অনুসারে আমাদের রিসোর্স তৈরি করবো। তখন আমাদের দেশের মানুষ ঘরে বসে ওয়ার্ল্ডওয়াইড কাজ করবে।

টেকভয়েস২৪/পিবি