কিছু শিক্ষক পবিত্র পেশাটাকে কলুষিত করেছেন
ছবি: আফরোজা লিলি

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: এক সময় শিক্ষক বলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠতো কিছু পবিত্র চেহারা। তবে কিছু কিছু শিক্ষক পবিত্র পেশাটাকে কলুষিত করেছেন বহু আগে থেকেই।

প্রাইমারি স্কুলে পড়াকালীন এমন কিছু শিক্ষককে চিনতাম, যাঁদের বাড়ি ছিল স্কুলের কাছেই। তাঁরা হেলেদুলে স্কুলে আসতেন। বাচ্চাদের একটা ধোলাই দিয়েই শুরু হতো তাঁদের কর্মদিবস। কারো কারো কান, মুখ টেনে লাল করে দিতেন। তারপর বেতটা টেবিলের উপর রেখে নাক ডেকে, মুখটা হা করে লম্বা একটা ঘুম দিতেন। কারণে অকারণে ছেলেদের ডেকে টেবিলের নিচে মাথা দিতে বলতেন। এরপর বেত দিয়ে পশ্চাৎদেশে আঘাতের পর আঘাত করতেন। মেয়েদের হাতের তালু বেতের আঘাতে লাল করে দিতেন। সাথে অশ্লীল গালিগালাজ তো আছেই। জাতির মেরুদণ্ড সোজা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কারিগররা এভাবেই জাতির মেরুদণ্ড সোজা করতেন! তাঁদের কাছে আমরা কি কিছু শিখতে পেরেছি?

তবে এমন শিক্ষকের সংখ্যা ছিল হাতেগোণা। ভালো শিক্ষকের সংখ্যাই ছিল বেশি। মেধাবী, রুচিবান এবং স্নেহপরায়ণ শিক্ষকরাই ছিলেন সত্যিকারের শিক্ষক। শাসন করা কেবল তাঁদেরকেই সাজে।
দু’ধরনের শিক্ষককেই মনে রাখা যায়। একদলকে শ্রদ্ধাভরে, আরেকদলকে ঘৃণাভরে।

এখন বলা হচ্ছে ভিকারুন্নেসার শিক্ষকরা নকল ধরার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির যুগে পুরো বই সামনে দিলেও নকল করার সাধ্য নাই। তবে পরীক্ষার হলে মোবাইল সাথে রাখার দায়ে তাঁরা তাঁদের ছাত্রীকে শাস্তি দিতেই পারেন। কিন্তু অভিভাবকদের অপদস্থ করার অধিকার শিক্ষকদের নেই।

সৃজনশীল যুগের আগে স্কুল কলেজে নকলের মচ্ছব ছিল। তখন কি বাবা মাকে ডাকা হতো? কয়জন বাবা মা তাঁদের সন্তানদের স্কুল বা কলেজ দেখেছে? যা শাস্তি দেয়ার ছাত্রছাত্রীকেই দেয়া হতো।

ভুল তো শিশুরাই করে। পরিবারের যেমন এই ভুল শুধরানোর দায় আছে, তেমনি স্কুলেরও আছে।

শিক্ষকতা পেশাটা হলো সাদা কাপড়ের মতো, দাগ লাগে বেশি। কথাবার্তা, আচার আচরণে শিক্ষকগণ হবেন রুচিশীল। যা দেখে ছাত্রছাত্রীদের মনে শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেবে। নৃশংসতা কখনো মঙ্গল ডেকে আনতে পারে না। এতে শিক্ষকদের প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মে। পরিমল জয়ধরও তো শিক্ষক!তাকে কি কেউ শ্রদ্ধা করবে?

আমরা আর কোনো শিক্ষককে জেলে দেখতে চাই না। বাবা মায়ের পরে ছেলেমেয়েরা যা কিছু শিখে,শিক্ষকদের কাছেই শিখে। এ মহান পেশার প্রতি সবার আস্থা ফিরে আসুক, এই কামনা করি।

(আফরোজা লিলি এর ফেসবুক পেজ থেকে. . .)

টেকভয়েস২৪/পিবি