চিনের বিরুদ্ধে আবারো ডিজিটাল স্ট্রাইক করলো ভারত
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: গত মাসে ভারতে ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়। লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে উত্তেজনার জেরে চীনের অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ করা হয়। এর পর চীনা পণ্য বর্জনের শোরগোল শুরু হয় সারা ভাতজুড়ে।

অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার পর অল্প সময়েই গুগল প্লে-স্টোর থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল সেগুলো।

এবার গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নীতিমালা না মানায় ভারতে আরো ৪৭টি চীনা অ্যাপস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল যে, এগুলো ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার সাথে আপস করছে এবং স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যার পরেই সরকার অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ কারার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও নতুন করে নিষিদ্ধ হওয়া ৪৭টি অ্যাপের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এ ছাড়া পাবজিসহ আরো ২৫০টি অ্যাপকে নজরে রেখেছে দেশটির সরকার। এই অ্যাপগুলোকে পরীক্ষা করে দেখা হবে যে সেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ভাঙছে কি না।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, শুক্রবার ৪৭টি চীনা অ্যাপের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। নতুন করে নিষিদ্ধ হওয়া অ্যাপগুলো আগে নিষিদ্ধ হওয়ার অ্যাপগুলোর ক্লোন বলে ভারতের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়।

গত ২৯ জুন টিকটক, শেয়ারইট, ইউসিব্রাউজারসহ ৫৯ চীনা অ্যাপ তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৬৯-এ ধারায় নিষিদ্ধ করে ভারত।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত অ্যাপগুলো দীর্ঘদিন থেকেই দেশের সুরক্ষা ও গোপনীয়তার নীতিমালা ভঙ্গ করে আসছিল। এর ফলে দেশের বিভিন্ন তথ্য পাচার হবার আশঙ্কা ছিল। যে কারণে দেরিতে হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেসব অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অত্যধিক জনপ্রিয় টিকটক, ইউসি ব্রাউজার।

দেশটির জাতীয় সুরক্ষা, সংহতি, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, এই প্রক্রিয়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে। নতুন করে ৪৭টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধকরণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

লাদাখে ভারত-চীন সংঘর্ষের পর বিরোধ নিয়ে উত্তেজনায় এমন সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি। ওই বিরোধে চীনা সেনাদের হামলায় ২০ জনের মতো ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...