ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশের সাথে কাজ করবে দক্ষিণ কোরিয়া

টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট:: ড্রোন প্রযুক্তি এবং জিও স্পেশালাইজড ল্যাব ব্যবহারে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইসিটি খাতে অনেক এগিয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের সাথে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) আইসিটি টাওয়ারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন।

এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে দেশের তরুণ রোবটিয়ানদের নিয়ে দ্রুত নতুন একটি উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম, উপ সচিব মো. মনির হোসেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ, বাংলাদেশস্থ দক্ষিণ কোরিয়ান দূতাবাসের প্রথম সচিব জিংইউন লি, দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান হোজাং সলিউশনস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নিবার্হী সিউক লি, আইসিটি বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থা সমূহের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃন্দ।

বৈঠকে কোরিয়ান বাংলাদেশে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়াটার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকোয়াকালচার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের করার কথা জানায়।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ভূমি, বিমান চলাচল ও পর্যটন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা তৈরির কথাও তারা জানান।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য আইসিটির সাথে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ভূমি, বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইসিটি বিভাগের পক্ষ হতে আইসিটি বিভাগ, সড়ক, পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, এলজিআরডি, কৃষি ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উক্ত প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়াও বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে জিও স্পেশালাইজড ল্যাব স্থাপন বিষয়ে এদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান কোইকার মাধ্যমে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

ড্রোন টেকনোলজি এবং জিও স্পেশালাইজড ল্যাব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে কোর্ডিনেশন মিটিং করার বিষয়ে উভয়দেশ একমত পোষণ করে।

সূত্রমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগে এ জন্য ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করা হতে পরে হাইটেক পার্কে।

এর আগে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্প প্রধান ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের কাজ শুরু করতে প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম-কে নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে জেলা ও উপজেলা কমপ্লেক্সে আইটি অবকাঠামোসহ এলএএন এনওস’র (নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার), টেকসই নকশা প্রণয়ন; ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে ৫৫৫টি ডিজিটাল সার্ভিস অ্যান্ড ইমপ্লোজমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (ডিএসইটি) স্থাপন এবং জয় সিলিকন ভ্যালির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

এর আগে সরকারের সেবাসমূহকে ই-সেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং সবক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো স্থাপনে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয় আইসিটি বিভাগ। গত ২৩ নভেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে এক লাখ ৯ হাজার ২৪৪টি ব্রডব্যান্ড অ্যান্ড ইউজার কানেকটিভিটি, ১০ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব, সেন্ট্রাল ক্লাউড প্লাটফর্ম এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার অব এক্সিলেন্স ল্যাব স্থাপন করার কথা।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...