তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি সফল দেশের নাম বাংলাদেশ

টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট :: কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর কাছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ একটি সফল দেশের নাম বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

‘টুওয়ার্ডস এ ডিজিটাল কমনওয়েলথ’ প্রতিপাদ্য বিষয়ে সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে দ্বিতীয়বারের মতো কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আয়োজনে চারদিনব্যাপী ৫৯তম কাউন্সিল সভা উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ৫ জির জন্য স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একদিকে যেমন নিজেদের প্রযুক্তি সম্ভবনা তুলে ধরতে পারবে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার হবে।

চারদিনব্যাপী এই আয়োজনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী, সচিব, রেগুলেটর প্রধান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তা এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

আয়োজকরা জানান, সিটিও বার্ষিক ফোরামে কমনওয়লেথভুক্ত দেশগুলোর সরকার, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান, অপারেটর, ইন্ডাস্ট্রি তথা সব স্টেকহোল্ডারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এবারের এ ফোরামে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য ব্রডব্যান্ড পরিকল্পনা, বৈশ্বিক সেবা তহবিলের পরিবর্তিত ধরণ, ওভার দ্য টপ সেবা, তরঙ্গ নিরপেক্ষতার প্রভাব, সাইবার নিরাপত্তা, ডাটা সুরক্ষা নীতিমালা, ব্লক চেইন ও বৈশ্বিক সুবিধা, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে তারুণ্যসহ বিবিধ বিষয়ে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

৫৩টি দেশের অংশগ্রহণে চারদিনব্যাপী সিটিও সম্মেলন শেষ হবে ৩ অক্টোবর।

সিটিও কাউন্সিল মিটিং হলো সিটিও’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা। এ সভাটি নিয়মিতভাবে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ সভার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের গুরুত্বের মাত্রা নির্ধারণ, ভবিষৎ কর্মসূচি প্রণয়ন ও সংগঠনের অগ্রগতি পরীক্ষা করে দেখা হয়। সংগঠনটির পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক ও কৌশলগত বিষয়গুলোর পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত সুপারিশ সদস্য দেশগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

সিটিও হলো কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো ও কমনওয়েলথ বহির্ভূত দেশগুলোর সরকারি, বেসকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী নাগরকি ও সুশীল সমাজের মধ্যকার একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারত্ব মূলক সংস্থা। এটি আইসিটি সর্ম্পকিত বৈশ্বিক আলোচ্যসূচিকে প্রভাবিত করতে কাজ করে। সিটিও আন্তর্জাতিক কমিউনিটি টেলিযোগাযোগসহ আইটি এবং ইন্টারনটেসহ তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে নতুন জ্ঞান প্রদানমূলক নানা কর্মসূচি আয়োজন করে। অভিজ্ঞতা, দক্ষতার ব্যবহার ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বিরাজমান ডিজিটাল বিভেদ বা শূন্যতা পূরণের যোগসূত্র তৈরি করে।

সিটিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিকে সংহত করতে সহযোগিতা দিতে যা জনগণকে ক্ষমতাবান, সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোর মধ্যে এ সংগঠন একটি বহুল পরিচিত সংস্থা, যার সদর দফতর লন্ডনে অবস্থিত। সব কমনওয়েলথভুক্ত সংস্থার মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন এবং সর্ববৃহৎ সংস্থাটির সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৩টি। বাংলাদেশ সিটিও’র একটি পূর্ণ সদস্য দেশ।

টেকভয়েস২৪/রিপোর্ট