নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসা
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: মহাকাশ অভিযানে নতুন ইতিহাসের মালিক হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাপোলো মিশনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশন এটি।

এই ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং প্রথমবারের মতো বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

এই প্রথম কোনো বেসরকারি বাণিজ্যিক রকেটে করে মহাকাশচারীকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাতে যাচ্ছে নাসা। স্থানীয় সময় বুধবার বেলা ৪টা ৩৩ মিনিটে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের কথা ছিল।

তবে সর্বশেষ নাসা জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে এসে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩০ মে শনিবার আবার উৎক্ষেপণের আয়োজন করা হবে।

স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগনে প্রপেলেন্ট হিসেবে রয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯, যেটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এ কারণেই অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ অনেক কমে যাবে এবং ব্যক্তিগত ভ্রমণের দ্বার উন্মুক্ত বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে প্রথম কোনো রকেট মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া স্পেসএক্স তাদের ১৮ বছরের ইতিহাসে নিজেদের তৈরি মনুষ্যবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। রকেটে থাকছেন নাসার দুই মহাকাশচারী- ডগলাস হারলি এবং রবার্ট বেনকেন। এটি পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ডকিং করবে।

স্পেসএক্সের রকেটে নিজস্ব মহাকাশচারীকে মহাকাশে পাঠানো নাসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

জানা গেছে, ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান তৈরি ও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের জন্য স্পেসএক্সকে নাসা ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি এককালীন অর্থ দিয়েছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্লেনেটারি সোসাইটি বলছে, এটি বেশ বড় অংকের টাকা হলেও নাসার আগের মহাকাশ কর্মসূচির তুলনায় সাশ্রয়ীই বলতে হবে।

গত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানব আরোহীকে পৌঁছে দিতে একমাত্র সক্ষম রকেট ছিল রাশিয়ার সয়ুজ।

সয়ুজের আসনপ্রতি নাসাকে খরচ করতে হতো সর্বোচ্চ প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত দশকজুড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে লোক পাঠাতে নাসাকে প্রতি আসনের পেছনে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ করতে হয়েছে। নাসার মহাপরিদর্শকের দফতরের ২০১৯ সালের নথিতে এমন তথ্যই রয়েছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন রকেটে নাসাকে আসনপ্রতি খরচ করতে হবে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অবশ্য এটি চুক্তির তথ্য। আসনপ্রতি প্রকৃত খরচ কতো তা স্পষ্ট নয়। সূত্র: বণিকবার্তা

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...