বিজ্ঞান গবেষণায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট :: ডিএনএ-র গঠন আবিস্কারের পথিকৃৎ রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিনের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি।

দিবসটি উপলক্ষে ২৫ জুলাই আয়োজিত অনলাইন আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন বিজ্ঞান গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত দুইজন নারী গবেষক। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন ও অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ এবং চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনুজীববিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা।

আলোচনায় ড. জেবা ইসলাম সেরাজ এবং ড. সেঁজুতি সাহা প্রথমেই রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিনের ত্যাগের বিষয়ে তুলে ধরেন। তারা জানান, রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিনের কাজ সকলের অনুপ্রেরণার অংশ। রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন প্রতিকূলতা জয় করে গবেষণা করে গেছেন। এ থেকে বোঝা যায় বিজ্ঞান গবেষণায় নারীরা শুরু থেকেই ছিল। শুরুর দিকে গবেষণায় তাঁরা অবহেলিত ছিল। ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন আসছে। নারীরা বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ড. সেঁজুতি সাহা সকল নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সবাই সহযোদ্ধা। আমাদের সবাইকে একসাথে এগোতে হবে। আমরা যারা একটু এগিয়ে যাব। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা অনেক বাধা পেরিয়ে এসেছি। তবে এই বাধা অবশ্যই রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন, মেরি কুরিদের থেকে অনেক কম। তাই আমরা যারা পিছিয়ে থাকছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।

ড. জেবা ইসলাম সেরাজ সবাইকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি কখনোই মেয়ে হিসাবে নিজেকে আলাদা করে চিন্তা করিনি। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। বিজ্ঞান পড়তে হলে লক্ষ্য হতে হবে আকাশের সমান উঁচু। আমি মেয়ে বলে পারব না এই ধারণা নিজের ভেতরে পোষণ করা যাবে না।

তিনি সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, মেয়েদের মধ্যে সহানুভূতি বেশি। তাই যে কোনো কাজ মেয়েদের করার সক্ষমতা বেশি।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করে প্রায় ২০০ নারী শিক্ষার্থী। নারীদের বিজ্ঞান গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচকদের প্রশ্ন করে তারা। আলোচকেরা সকলের প্রশ্নের উত্তর দেন। নিজেদের মতামত জানান। আলোচনায় সর্বকনিষ্ঠ ছিলো তৃতীয় শ্রেণির কাজী আফসানা ইমামা। সে জানতে চায় বিজ্ঞানে আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য কী বই পড়া উচিত?

তার উত্তরে ড. জেবা ইসলাম সেরাজ এনসিটিবির ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞানের মজার পাঠশালা বইটি পড়তে বলেন। সর্বোপরি আলোচনায় বিজ্ঞান চর্চায় নারীদের বর্তমান অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও এর প্রতি সবার ইতিবাচক মনোভাব পোষণের আহ্বান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন করার পাশাপাশি মতামত প্রদান করে।

একজন অংশগ্রহণকারী জানান, আমাদের দেশের নারীরা বিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে আসছেন তার প্রমাণ ড. জেবা ইসলাম সেরাজ এবং ড. সেঁজুতি সাহার মত বিজ্ঞানীরা। সবশেষে আলোচকেরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন ছিলেন একজন ব্রিটিশ ভৌত রসায়নবিদ। তিনি প্রথম ডিএনএ-র ঘনত্ব বের করেন। তাঁর নিজের উদ্ভাবিত একটি উপায়ে ডিএনএ-র আকার বের করেন। তিনি ডিএনএ-কে কুণ্ডলাকার হিসেবে আবিষ্কার করেন। এছাড়া ডিএনএ নিয়ে তিনি আরো গবেষণা করেছেন।

তাঁর এই উদ্ভাবিত তথ্য ব্যবহার করেই আজকের এই আধুনিক ডিএনএ মডেল তৈরি হয়েছে। অথচ এর স্বীকৃতি পূর্ণভাবে তিনি পাননি। ক্ষণজন্মা এই নারী বিজ্ঞানী মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা যান ১৯৫৮ সালে। তাঁর মৃত্যুর চার বছর পরে ওয়াটসন এবং ক্রিক মডেলেরর জন্য তিনজন বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যান। মাত্র ৩৮ বছরের জীবনযাত্রায় তিনি আরো অনেকগুলো বিষয়ে পেপার প্রকাশ করেছেন। প্রতিকূল অনেক পরিস্থিতি কাটিয়ে চালিয়ে গিয়েছেন গবেষণা। নারীদের বিজ্ঞান চর্চার অনুপ্রেরণা হিসাবে তার নাম অবশ্যই প্রথম সারিতে থাকবে।

এই আলোচনার পাশাপাশি দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারীদের বিজ্ঞান চর্চাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য দিনব্যাপী একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় অনলাইনে। যেখানে মূলত রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিনের বিভিন্ন কাজ ও তার বিভিন্ন অবদানকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন করা হয়। এই কুইজে অংশ নেয়া সকলে খুব সহজেই রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন এর জীবন সম্পর্কে একটা ধারণা যাতে লাভ করতে পারেন সেভাবেই কুইজটি তৈরি করা হয়েছে।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...