ভেন্ডরের মাধ্যমে জিপির গ্রাহকসেবা কেন্দ্র পরিচালনা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট :: তৃতীয় পক্ষ ভেন্ডরের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের তকবগ্রাহকসেবা কেন্দ্র পরিচালনার করলে জননিরাপত্তা ও গ্রাহকসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গ্রামীণফোন কর্তৃক অনৈতিকভাবে কর্মী ছাঁটাই, সারাদেশে সার্ভিস সেন্টার বন্ধ ও গ্রাহক পর্যায়ে সেবার মানহীনতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, এনডিএম’র সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হীরা, সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ইয়াসমিন আক্তার সীমা, কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, গ্রামীণফোন অনৈতিকভাবে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছে। পাশাপাশি সারাদেশে সার্ভিস সেন্টার বন্ধ ও গ্রাহক পর্যায়ে তাদের সেবার মানহীনতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। টেলিকম লাইসেন্স, রেগুলেটরি ও লাইসেন্সিং গাইডলাইনস ২০১১, টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ২০১৮ ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন আইন ২০০১ অনুযায়ী, গ্রামীণফোন লি. মানসম্মত ও নিরাপদ গ্রাহকসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপারেটরগুলো নিজস্ব গ্রাহকসেবা কেন্দ্র ও নিজস্ব দক্ষ, দায়িত্বশীল ও সুশিক্ষিত জনবল দ্বারা গ্রাহকসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নিজস্ব গ্রাহকসেবা কার্যক্রম বাতিল করে ৩য় পক্ষ ভেন্ডরের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত আমাদেরকে হতবাক করেছে।

মহিউদ্দীন আহমেদ আরো বলেন, এতে করে জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি ও গ্রাহকসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অদক্ষ ভেন্ডরের মাধ্যমে সিম ক্রয় ও নিবন্ধনে ভুল, সিম জালিয়াতি, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্যের অপব্যহার হতে পারে। অন্য অপারেটরগুলোও যদি গ্রামীণফোনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাহলে দেশের টেলিকম খাতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে কর্মরত স্থায়ী, দক্ষ ও শিক্ষিত হাজারো কর্মীর চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রামীণফোনের সেবার মান দিন দিন নিম্নমুখী। গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে কলড্রপ, মিউট কল, ইন্টারনেট প্যাকেজের নামে প্রতারণা, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই একজনের সিম অন্যজনের কাছে বিক্রি করা, ভ্যাশ অপারেটর কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের অফার দিয়ে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর বিটিআরসি’তে ৫ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ জমা পড়েছিল সব অপারেটরের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে কেবল মাত্র গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছিল প্রায় ২ হাজার। ভোক্তা অধিদপ্তরে এখনো জমা পড়ে রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার অভিযোগ। ৩য় পক্ষের মাধ্যমে স্বল্প খরচে অদক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে গ্রাহক সেবা দেওয়ার কারণেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে জিপি। ভ্যালু এডেড সার্ভিস (ভ্যাস) অপারেটর দিয়ে অনৈতিক সেবা দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা ইতিমধ্যে বিটিআরসির পর্যবেক্ষণেই উঠে এসেছে।

এ সময় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শ্রম আইনের ৩৩(৯) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না। টাকা দেব, সেবা পাবো না এটা হতে পারে না। সর্বোচ্চ কলরেট এবং সর্বনিম্ন সেবার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হওয়ার দরকার। কর্মী ছাঁটাই এবং মানহীন সেবার বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ৪টি প্রস্তাব পেশ করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, জিপিইউ’র সাধারণ সম্পাদককে পুনর্বহাল করে টেলিকম খাতে বিদ্যমান অস্থিরতা দূর করা, ৩য় পক্ষ ভেন্ডর দিয়ে সেবা প্রদান বন্ধ করে নিজস্ব দক্ষ জনবল দিয়ে সকল গ্রামীণ সেন্টার পুনরায় চালু করে গ্রাহকদের কাঙিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা, ভ্যাস অপারেটর দ্বারা অনৈতিকভাবে আদায়কৃত অর্থ গ্রাহকদের মাঝে ফেরত দেয়া এবং তরঙ্গ স্বল্পতা নিরসন করে নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন করা।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...