মথুরাপুরে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

কামনা কস্তা

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় মথুরাপুর, সেন্ট রীটাস হাইস্কুল, কাথুলী সেন্ট আন্তনী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগতলা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং ফৈলজানা সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির (এম সি) সদস্যদের অংশগ্রহণে শিশু সুরক্ষা পলিসি সহভাগিতা বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহী কারিতাস অঞ্চলের যুব ও শিক্ষক গঠন প্রকল্প এবং রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় শিক্ষা কমিশনের আয়োজনে সোমবার (১৫ মার্চ) মথুরাপুর ধর্মপল্লীর মিশন মিলনায়তনে উক্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মথুরাপুর ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত এবং সেন্ট রীটাস্ হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফাদার দিলীপ এস কস্তার সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল এবং ধর্মপ্রদেশীয শিক্ষা কমিশনের সেক্রেটারি ফাদার পল গমেজ।

আরো উপস্থিত ছিলেন বনপাড়া সেন্ট যোসেফস্ স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক এবং শিশু সুরক্ষা কমিটির প্রশিক্ষক সজীব পিউরিফিকেশন, বনপাড়া সেন্ট যোসেফস্ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক এবং শিশু সুরক্ষা কমিটির প্রশিক্ষক মিসেস শিল্পী ক্রুশ এবং রাজশাহী কারিতাস অঞ্চলের কর্মকর্তা (এফ ওয়াই টিপি) অসীম ক্রুশ প্রমুখ।

ফাদার দিলীপ কস্তার স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনার শুরু হয়। তিনি বলেন, শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনার যুগোপযোগী একটি সেমিনার। এ সেমিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা শিশু সুরক্ষা বাস্তবায়ন ও ফলপ্রসূ করে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।

সেমিনারে শিশু অধিকার, শিশু নির্যাতনের ধরণ ও শিশু সুরক্ষায় করণীয় প্রসঙ্গে সজীব পিউরিফিকেশন বলেন, শারীরিক, মানসিক, যৌন, অবহেলাজনিত, প্রযুক্তিগত এই পাঁচভাবে বাংলাদেশে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয়। বর্তমানে প্রযুক্তিগত নির্যাতন বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের প্রথম ও প্রধান কারণ অর্থনৈতিক দূরাবস্থা। আর্থসামাজিক দূরাবস্থা ও এর অন্যতম কারণ।

তিনি আরো বলেন, শিশু সুরক্ষায় করণীয় হিসেবে শিশুর পুষ্টিকর খাবার, চিকিৎসা, সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ এবং শিশুকে তার প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিতকরণ করতে হবে।

শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বিষয়ে শিল্পী ক্রুশ বলেন, শিশু অধিকার আইনে বাংলাদেশ প্রথম দিকেই স্বাক্ষর করলেও এখনো শিশু নির্যাতন বন্ধ হয়নি। শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু। শিশু অধিকারের মধ্যে বেঁচে থাকার অধিকার, লেখাপড়ার মাধ্যমে জ্ঞান-বুদ্ধি বিকাশের অধিকার, সুরক্ষার অধিকার উল্লেখযোগ্য। শতকরা ৮৫ ভাগ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তার কাছের মানুষের দ্বারা। তাই শিশুর সুরক্ষায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

শিশু সুরক্ষায় করণীয় ও বর্জনীয় এই প্রসঙ্গে ফাদার পল বলেন, গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ চিনতে সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। শিশুকে নির্ভয়ে মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা এবং শিশুকে মার্জিতভাবে সংশোধন হতে উৎসাহিত করতে হবে।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সেন্ট রীটাস্ হাইস্কুলের শিক্ষিকা বিবিয়ানা রোজারিও অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনার আয়োজন একটি সুন্দর উদ্যোগ। সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনা আমাদের শিক্ষার্থীদের সুন্দর গঠন ও শিক্ষাদানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...