‘মোটরসাইকেল বন্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণ করুন’

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক:: মোটরসাইকেল বন্ধ করে দেয়া কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত না বরং নিয়ন্ত্রণ করে শৃঙ্খলায় আনা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।

সোমবার (৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কিছু উশৃঙ্খল মোটরসাইকেল চালক পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এবং সেতুর উপর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দুঃখজনক হলেও সত্য উদ্বোধনের দিন স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে দুর্ঘটনা পতিত হয়ে দুজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়। রমজানের ঈদে ঘাট পারাপারে মোটরসাইকেল চালকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এই কথা সত্য। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিআরটিএ, সেতু মন্ত্রণালয়-এর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ঈদের সাত দিন এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মোটরসাইকেল চালানো এবং রাইট শেয়ারিং বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু এই বিশৃঙ্খলার জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগ বহুলাংশে দায়ী। কর্তৃপক্ষ এবং সরকার প্রকৃত রূপ এবং কারণ নির্ধারণ এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ নাগরিক ও মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারীদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি এমন যে পায়ে পচন ধরেছে অথচ ডাক্তার চিকিৎসা না করে রোগীকে বিষ খেয়ে মৃত্যুবরণ করতে বললেন। একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব পচন ধরার স্থানে অপারেশন করে সুচিকিৎসা দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলা। বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য মতে, কেবল রাজধানীতেই চলাচল করে প্রায় ১০ লাখ মোটরসাইকেল। এদের মধ্যে সাংবাদিক, ঔষধ ও বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি, মধ্য আয়ের চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রকল্প সাইটে নিয়োজিত প্রকৌশলী রয়েছে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ঢালাওভাবে বন্ধ ঘোষণা করলে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারকারীরা বিপাকে পড়বে। কারণ তারা ঈদের মধ্যে গণপরিবনের অতিরিক্ত ভাড়া এবং যানজটের কারণে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল দিয়ে ঘরে ফিরতে চায়। রাইট শেয়ারিং পরিচালনকাররা এই ঈদের সময় অতিরিক্ত কিছু আয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। যদি ঢালাওভাবে মোটরসাইকেল বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে রাইট শেয়ারিং চালকরা যেমন আয় থেকে বঞ্চিত হবে, তেমনি ভাবে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা বড় ভোগান্তিতে পারবে।

সমস্যা নিরসনে তিনি কিছু পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাই বর্তমান সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আলাদা লেন মেনে সুশৃংখলভাবে চালানোর নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। না মানলে জেল জরিমানার জরুরী বিধান করা যেতে পারে। অবৈধ লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল বন্ধে ঘন ঘন চেকপোস্ট বসানো যেতে পারে। চলাচলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করা যেতে পারে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল একটি উদীয়মান শিল্প খাত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছরে ২ লাখ ২০ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ‌ বর্তমানে দেশে ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। দেশের উদীয়মান একটি শিল্প এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনার একটি খাত অতিরিক্ত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ঈদের আগে গতকালকে নেওয়া সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...