মোবাইল অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান

টেকভয়েস রিপোর্ট:: মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অর্থাৎ অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে গ্রাহক অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

ওই বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নাগরিকদের দৈনন্দিন কাজে ইন্টারনেট এর প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি জীবনকে যত সহজ করে দিয়েছে, ঠিক একইভাবে অনেক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ম্যালওয়্যারের মতো ক্ষতিকর ভাইরাস যুক্ত করায় নাগরিকদের জীবন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

সংগঠনটির সভাপতি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গুগল প্লে-স্টোরে এখন প্রায় ৩৫ লাখের ওপর মোবাইল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। অন্য এক গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ৮০শতাংশ ম্যালওয়্যার তৈরির পিছনে অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন দায়ী। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আবার এ সকল ব্যবহারকারীর মধ্যে ৯৮% ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করে। আমাদের দেশে গুগল কেবলমাত্র ভ্যাট নিবন্ধন করেছে। তাদের কোনো কোন ডাটা সেন্টার বা কার্যালয় নেই। আমরা এখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করা শিখছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ জানেন না কোন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটা ব্যবহার করা প্রয়োজন বা কোনটার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিবন্ধন করা বা পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা বা কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাই এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে আমাদের জীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যাপ্লিকেশন প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। সকালে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়ার অ্যালার্ম থেকে শুরু করে মিউজিক প্লেয়ারে পছন্দের প্লে-লিস্টটি চালু করে জগিংয়ে যাওয়া, গাড়ির টিকিট কেনা, হোটেলের রুম কিংবা রেস্টুরেন্টের টেবিল বুকিং দেওয়া, গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য ডিজিটাল নেভিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিক এবং সহজ পথটি বেছে নেওয়া, দূর-দূরান্তের মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কগুলো অবিরত রাখাসহ অনেকভাবে জীবনকে সহজ করে দিচ্ছে এ প্রযুক্তি।

তিনি বলেন, আমরা চাইলেই কিছু শর্ত মেনে খুব সহজেই আপনার স্মার্টফোনটির মাধ্যমে নিরাপত্তার স্বার্থে আপনজনদের গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখতে পারি। দূর থেকেও চোখ রাখতে পারি, আমাদের বাড়ি, গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর উপর। অর্থাৎ জীবনকে সহজ, আনন্দময় করার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকমের ব্যবস্থাপনা দিয়ে তৈরি হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশনগুলো। কিন্তু এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো সত্যিই কি নিরাপদ? আমাদের নিয়ন্ত্রণ কমিশন কতটুকুই বা সক্ষম? নিয়ন্ত্রণে আমাদের নেই কোন নীতিমালা। ইতিমধ্যে বহু মোবাইল এপ্লিকেশনের বিরুদ্ধে ম্যালওয়্যার ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার সামাজিক অবক্ষয় রক্ষার্থে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...