যে কারণে হিন্দু বিবাহিত নারীরা শাঁখা পরেন
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: শাঁখা, পলা হিন্দু বিবাহিত নারীদের অপরিহার্য ভূষণ বা অলঙ্কার বিশেষ। শঙ্খ কেটে তৈরি চুড়ি বা বালা জাতীয় অলঙ্কার তৈরিকে শাখা বলে।

শঙ্খ কেটে তৈরি চুড়ি বা প্রাচীনকাল থেকেই স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু বিবাহিত মহিলারা সিঁদুর এবং শাঁখা-পলা ব্যবহার করেন।

একজন হিন্দু মহিলার বৈবাহিক চিহ্নই হল এই সিঁদুর এবং শাঁখা-পলা।

একজন হিন্দু বিবাহিত মহিলার অবিচ্ছেদ্য অলংকার এগুলি। তবে বর্তমানে আধুনিক সমাজে অনেকেই এই সিঁদুর এবং শাঁখা-পলা ব্যবহার কে বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন না। কিন্তু তবুও হিন্দু শাস্ত্র মতে বিয়েতে এখনও এই চিহ্নগুলি ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ের নিয়ম।

তবে শুধুমাত্রই কী স্বামীর মঙ্গলকামনায় বা নিয়মের কারনেই মহিলাদের এই শাঁখার ব্যবহার!

ব্রহ্মবৈবরত পুরাণের মতে, মহাভারতের সময়কাল থেকে অর্থাৎ প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে এই শাঁখার ব্যবহার শুরু হয়। সেই সময় শঙ্খাশূর নামে এক অত্যাচারী অসুরের তান্ডবে দেবলোক অশান্ত হয়ে উঠে।

সেই সময় সকল দেবতারা মিলে ভগবান নারায়ণের দ্বারস্থ হন। নারায়ণ সেই সময় শঙ্খাশূরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন।

এদিকে শঙ্খাশূর-এর ধর্মপরায়ণ স্ত্রী তুলসী স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রার্থণা শুরু করেন। তুলসীর প্রার্থণায় সন্তুষ্ট হয়ে নারায়ণ শঙ্খাশূর-এর হাড় দিয়ে শাঁখা তৈরি করেন।

সেই থেকেই হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের স্বামীর মঙ্গলকামনায় এই শাঁখা পড়ার প্রচলন শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়।

এ তো গেল পুরাণের বর্ণনা। ব্রিটিশ লেখক জেমস ওয়াইজের লেখা থেকে জানা যায়, বল্লাল সেনের সঙ্গে দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলাদেশে শাঁখারিরা এসেছিলেন। অর্থাৎ, আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর আগেও শাঁখার প্রচলন ছিল।

ঐতিহাসিকদের মতে, বল্লাল সেনের অনেক আগে থেকে (প্রায় ২,০০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারতে শঙ্খশিল্পের উদ্ভব ঘটে) দক্ষিণ ভারতে অলঙ্কার হিসাবে শাঁখার প্রচলন ছিল। তবে তার পেছনে কোনও ধর্মীয় কারণ ছিল কিনা-সে বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে।

সেই রকম কপালে সিঁদুর ব্যবহারেরও কিছু বিধি শাস্ত্রের মাধ্যমে জানা যায়৷

শাস্ত্র মতে, তর্জনি দিয়ে সিঁদুর পরলে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়। মধ্যমা ব্যবহার করলে আয়ু বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন কালে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে সিঁদুর তৈরি হত। তার পরে তাতে লাল রং মিশিয়ে সিঁদুদের গাঢ়ত্ব বৃদ্ধি করা হতো।

শাস্ত্রমতে, লাল শক্তির প্রতীক। শাস্ত্র অনুযায়ী মানব শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেবতা অবস্থান করেন। যেমন কপালে অধিষ্ঠান করেন স্বয়ং ঈশ্বর ব্রহ্মা। লাল কুঙ্কুম ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। আর সেই কারণেই প্রাচীনকাল থেকে হিন্দু মহিলারা শক্তির প্রতীক এবং প্রসাধনী হিসেবে সিঁদুরের ব্যবহার করেন। সূত্র: জিনিউজ

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...