শতরঞ্জিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান সৈয়দা সুমাইয়া

নাজমুন নাহার নূপুর

রংপুরের মুন্সিপাড়ায় আমার বাড়িতে জন্ম সৈয়দা সুমাইয়া সংগীতার। সেখানেই বেড়ে ওঠা তার। রংপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও রংপুর সরকারি কলেজে পড়াশুনার গণ্ডি শেষে পাড়ি দেন ঢাকায়।

রাজধানীর হোম ইকোনোমিক্স কলেজের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। পড়াশুনা শেষে খাদ্য ও পুষ্টিতে ক্যারিয়ার শুরু হয়নি, যোগ দেন বেঙ্গল গ্রুপে। সবকিছু ভালোই চলছিলো কিন্তু যাতায়াতের দূরত্বের কারণে এক সময় বাধ্য হয়েই ছাড়তে হয় ৬ বছরের চাকরি।

চাকরি ছাড়ার পর কিছু করার তাগিদ থেকেই কাছের মানুষদের পরামর্শে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন। রংপুরের মেয়ে হওয়ায় তিনি শতরঞ্জিকেই বেছে নেন ব্যবসার উপকরণ হিসেবে।

উদ্দেশ্য ছিলো নিজের ব্যবসার পাশাপাশি এ ঐতিহ্যের বিস্তারের। একেবারে ছোট পরিসরে শুরু করা এ ব্যবসার শুরুটা চলছে ভালোভাবেই। ছোট্ট পরিসরে হলেও অনেকেরই বেড রুম, ড্রয়িং রুম ও ডাইনিং টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে দেশীয় এ পণ্য। তবে যেতে হবে আরো অনেক দূর…।

এখনো দেশীয় পণ্য সীমাবদ্ধ গুটিকয়েক রুচিশীল মানুষের কাছেই। দাম ও সহজলভ্যতার অভাবে অনেকেই দেশী পণ্যের প্রতি এখনো আকৃষ্ট নয়। তবে মানুষের মধ্যে ভবিষ্যতে শতরঞ্জির আরো বিস্তারে কাজ করবে সুমাইয়া’স কালেকশন। শতরঞ্জির নকশা ও মানে নতুনত্ব, ক্রেতাদের রুচি ও পছন্দে গুরুত্ব দিয়ে কিভাবে তুলনামূলক কম দামে দেয়া যায় সেজন্য কাজ করা হবে। যাতে শতরঞ্জি সাধারণ মানুষের ঘরেও জায়গা পায়।

আর এ পথচলায় প্রয়োজন অনেক শুভকাঙ্ক্ষী ও অংশীজন। উই তেমনই একটি অংশীজন। ব্যবসা সম্পর্কে একেবারে আনাড়ী সংগীতা উইয়ের মাধ্যমে জেনেছেন ব্যবসার অনেক খুঁটিনাটি। উই থেকে প্রতিনিয়ত শিখেছেন। তিনি মনে করেন নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য উই একটা বড় পরিবার। উই পরিবারের মত আমাদের পাশে থেকে সাথে থেকে পথ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতেও দেখাবে, সেই প্রত্যাশায়…।

অল্প কয়েকদিনের যাত্রায় সবকিছু সন্তোষজনক। তবে এখনো দীর্ঘ পথ বাকী। অনলাইনে বিজনেসের অ আ ক খ না জেনেই পথে নেমেছেন সংগীতা। শিখতে হবে অনেক কিছু। লাগবে পুঁজিও। অদম্য ইচ্ছে আর কাজের প্রতি ভালোবাসায় হয়তো পাড়ি দেয়া যাবে এ যাত্রা…।

টেকভয়েস২৪/পিবি

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...