অনলাইন কেনাকাটা ও আমার কথা
লেখক সুরাইয়া শারমিন (ছবি: সংগৃহীত)

বর্তমান পৃথিবীতে অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টা অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। এর পেছনে একটা প্রধান কারণ হলো, এখন ছেলে-মেয়ে উভয়ই কাজ করে।

মানুষ তার সময়ের মূল্যকে অর্থ দিয়ে বিচার করে। এর একটা উদাহরণ আমি আমাকে দিয়ে দিচ্ছি-আমি যদি দুই ঘন্টা আমার বিজনেসে সময় দেই তাহলে আমার কম করে হলেও পাঁচ শত টাকার কাজ এগিয়ে থাকবে। সেই ক্ষেত্রে আমি যদি আমার কেনাকাটার জন্য বের হই তখন বাইরে যাওয়ার জন্য রেডি হতে আমাকে পোশাক পরিবর্তন করতে হবে। তার পরে আমাকে যানবাহনের পেছনে টাকা ব্যয় করতে হবে।

>> এই লেখকের লেখা আরো পড়ুন: সিদ্ধান্ত

যখন করোনা পরিস্থিতি ছিলো না তখন জ্যামে পড়ে যাওয়া-আসা মিলে না হলেও বারতি একঘন্টা ব্যয় হতো। বাহিরে গেলে খাওয়া হতো মাস্ট। এবং এ দোকান ও দোকান ঘুরতে ঘুরতে আমি ক্লান্ত হয়ে যেতাম।

এখন আসি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা যদি বাইরে কেনাকাটা করতে যাই প্রথমেই একটা মাস্ক লাগবে, তার পরে আরো কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তারপরেও আমি অনেক বেশি আতংকিত থাকবো আমার মাধ্যমে বাসায় কোন ভাবে করোনাভাইরাস চলে এলো কিনা।

>> এই লেখকের লেখা আরো পড়ুন: ঈদ

আমার বাসায় অনেক দিন থেকেই অনলাইনে সব ধরনের কেনাকাটা করা হয়। আমি মনে করি, এতে করে আমার বাড়তি অর্থ ব্যয়, সময় ব্যয় কম হয় এবং আমার শারীরিক মানসিক সুস্থা বজায় থাকে। কারণ আমি কেনাকাটা করে আনন্দ পাই ঠিক আছে, তবে তা কেনার জন্য ঘুরাঘুরি করতে না। আমি বাসায় বসে যখন আমার পছন্দের ড্রেস, শাড়ি বা আমার শখের কিছু কিনি তাতেও অনেক আনন্দ পাই।

আমি পছন্দ করি খোলা কোনো জায়গায় বেড়াতে সবুজ দেখতে এবং সময় হাতে থাকলে বন্ধুূের সাথে আড্ডা দিতে। আমি খুব কম সময় হাতে পাই, আর সেটুকু সময় আমি বই পড়ি, আমি আমার লেখার কাজ করি।

এখন কথা হলো, একজন গ্রাহক হিসাবে আমি যেহেতু অনলাইন কেনাকাটার উপরে অনেক খানি নির্ভরশীল তাই আমি কেমন সেলার চাই।

যার পণ্যের মান ভালো, ডেলিভারি সার্ভিস ভালো, সঠিক সময়ের মধ্যে পার্সেল হাতে পাই এবং অবশ্যই ব্যবহার ভালো হতে হবে।

এখন ক্রেতা হিসাবেও আমাকে ভালো হতে হবে, কারণ আমি যাদের কাছ থেকে পণ্য নেই তারা আমাকে ঘরে বসে আমার পণ্যগুলো পেতে সাহায্য করে।

আমি কখনো আমার বাসায় কোন পার্সেল দিতে আসা ডেলিভারি এজেন্টকে এক মিনিট সময় অপেক্ষা করাই না।

আমি চেষ্টা করি বিকাশে পেমেন্ট অগ্রিম দিয়ে দিতে, তা না হলে তার পেমেন্টের টাকা রেডি রাখতে। আমার কাছে খুচরা টাকা না থাকলে আগেই বলে দেই ভাংতি নিয়ে আসতে।

কারণ একজন ডেলিভারি এজেন্টকে দাঁড় করিয়ে রেখে ভাংতি খোঁজা বা তাকে টাকা ভাংতি করে আনার পেশার দেওয়াটা অশোভন। কারণ ওদের কাছে অনেক টাকা থাকে না ও কোন দোকান না। ধন্যবাদ সবাইকে। আজ এই টুকুই।

লেখক : সুরাইয়া শারমিন, গল্পকার ও উদ্যোক্তা, স্বত্বাধিকারী, অনলাইন প্লাটফর্ম ‘সুরাইয়া’ এবং ফাউন্ডার, অমরাবতী হারবাল হেয়ার অয়েল।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...