আত্মহত্যা এক সামাজিক ব্যাধি
লেখক সিমান্ত পিটার গমেজ

যখন শুনি কেউ আত্মহত্যা করেছে তখন খুব কষ্ট লাগে। তখন পৃথিবীটার উপর আরেকবার চোখ বুলাই, ভাবি এ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মানুষ কেন চলে যেতে চায়/চলে যায়?

উত্তরটা শুধু সেই মানুষটাই জানে যে চলে গেছে। যদি সম্ভব হতো তাকে একবার জিজ্ঞাসা করতাম, তুমি কি এখন ভালো আছ? আত্মহত্যা করে কি তোমার সব কষ্টের অবসান ঘটেছে?

ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। আর আমাদের জীবন যুদ্ধটা এই পৃথিবীতে আসার পর শুরু হয় না, বরং যুদ্ধটা শুরু হয় মায়ের গর্ভে প্রবেশের সময় থেকেই। কয়েক লাখ শুক্রাণুর সাথে যুদ্ধ করে যে শুক্রাণুটা মায়ের গর্ভের জায়গাটুকু দখল করতে পারে, সেই মানুষ হয়ে আসে এ পৃথিবীতে।

>>আরো পড়ুন : আত্মহত্যা করলেন জেনি বেবী কস্তা

আমাদের জীবনে অনেক কিছু ঘটে, সবসময় যে আমাদের মনের মত করেই সব হবে তা কিন্তু না। তবে সব প্রতিকূলতার সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। ভাবতে অবাক লাগে যখন একজন মানুষ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিজের ঘর-বাড়ি সহায়-সম্পত্তি সব বিক্রি করে দেয়, সেই সময় আরেকজন মানুষ নিজের ঘরের এক কোনে নিজের জীবনটা শেষ করে দেয়।

‘‘একজন মানুষ একাকিত্বের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলেই নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আপনারা যদি বুঝতে পারেন যে কেউ একাকিত্বে ভুগছে, দয়া করে তাকে একটু সময় দিন। আপনার সময়টা অপচয় হবে না বরং আপনার জন্য হয়তো একটা জীবন বেঁচে যাবে।’’

মানসিক চাপ জিনিসটা খুব ভয়ংকর।
‘এই মাটির দেহ খাইলো ঘুণে
দেখলো না তো কেউ
সারা জীবন দুই নয়নে
রইলো জলের ঢেউ
আমার দুঃখের কথা কইতে গেলে
এই দুনিয়ার সবাই বলে
শোনার সময় নাই।
হায় এখন বুঝি দারুণ সময়
বদলে গেছে দিন
কেউ আমারে চায় না দিতে
একটু সময় ঋণ’।. . .

গানটা অনেকেই শুনেছেন, কোনদিন কি এই গানের কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা করেছেন কেউ। না করে থাকলে আজ করুন। একজন মানুষ একাকিত্বের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলেই নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আপনারা যদি বুঝতে পারেন যে কেউ একাকিত্বে ভুগছে, দয়া করে তাকে একটু সময় দিন। আপনার সময়টা অপচয় হবে না বরং আপনার জন্য হয়তো একটা জীবন বেঁচে যাবে।

আর আপনার আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর সাথে এমন কোন আচরণ করবেন যা তাকে বিষণ্নতা বা একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। যদি কারো সাথে কোন ঝামেলা হয়েও থাকে তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটিয়ে ফেলুন। কারণ আজ আপনার কোন রাগ বা কথার জন্য যদি কেউ নিজের জীবন শেষ করে দেয় তাহলে আপনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিবেকের দংশনে ভুগবেন। নিজেকে কোনদিন ও ক্ষমা করতে পারবেন না।

আর আপনাকে বলছি যিনি প্রচণ্ড একাকিত্বে নিজের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিচ্ছন, এই পৃথিবীতে আমরা সবাই একা, আবার কেউই একা নই। নিজের নিঃসঙ্গতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কাউকে বেছে নিন, যিনি আপনার গুরুত্ব বুঝেন বা আপনাকে যথেষ্ট সময় দেন।

নিজের জীবনটা শেষ করে দেওয়ার জন্য প্রচুর সাহসের প্রয়োজন। সেই সাহসটাকে সম্বল করে সব প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা করুন, আমার বিশ্বাস আপনাকে আর কেউ মারতে পারবে না।

আপনার আপন মানুষগুলোর উপর যদি খুবই তিক্ত হয়ে যান, তাহলে নিজেকে কিছুদিন তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখুন আমি বিশ্বাস করি, আপনি আবারো বেঁচে থাকার নতুন কোন কারণ পেয়ে যাবেন। আর আপনার পরিজনরাও আপনার মূল্য বুঝতে পারবে। পৃথিবীর সৌন্দর্য প্রত্যেক দিন নতুন ভাবে উপভোগ করুন।

ইউটিউবে সার্চ করলে একটা ভিডও খুঁজে পাবেন যেখানে একটা কুকুর প্রায় চার কিলোমিটার লম্বা যমুনা সেতুর রেল লাইনের উপর দিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে চলন্ত ট্রেনের সামনে দৌড়ে ট্রেনের আাগে সেতু পার হয়ে গেল।

ট্রেনের চালক ও কুকুরটাকে বাঁচানোর জন্য ট্রেনের গতি কমিয়ে দিয়েছিল। ট্রেনের চালকের সাহায্য ও কুকুরটার ইচ্ছাশক্তির কারণেই কুকুরটা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল।

আপনারও যদি ইচ্ছেশক্তি দৃঢ় হয় তাহলে আপনিও ট্রেন চালকের মত একজন সাহায্যকারী পেয়ে যাবেন। আসুন একসাথে বাঁচি এ সুন্দর পৃথিবীতে।

লেখক: সিমান্ত পিটার গমেজ, সভাপতি, ফৈলজানা খ্রিষ্টান যুব সংঘ।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...