লেখাপড়া শিখে লাভ কি?
ছবি: সংগৃহীত

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: ১০০ দিনের রিডিং গাইডলাইন ছিল একটি বোকামি ধরনের প্রজেক্ট। কেন জানেন? এদেশে প্রায় সবাই মনে করে রিডিং বা পড়া মানে খুব অল্প কিছু প্রশ্ন মুখস্ত করা।

আর আমার গ্রুপে আপনারা যারা রয়েছেন তাদের প্রায় ১০০% এর অবস্থা তো আরো খারাপ। পড়ার দিকে সামান্য আগ্রহ আর দক্ষতা আর অভ্যাস থাকলে তো আমার পাল্লায় পরতেন না।

তাই খুব বেশি লোক এদিকে আগ্রহী হবে না জেনেও আমি এই ১০০ দিনের রিডিং গাইডলাইনের জন্য সময় দিয়েছি, চেষ্টা করেছি, প্রতিদিন গ্রুপে যেন আড্ডা পোস্ট হয়। খুব বেশি লোক যে প্রতিদিন রিডিং গাইডলাইন ফলো করে তাও নয়। তাই আসলেই এটি একটি বোকামি এবং লস প্রজেক্ট বলতে পারেন। কিন্তু এ থেকে মহা লাভ হবে তা বুঝে গেছি। অনেক বড় লাভ হয়েও গেছে।

প্রথমত আমি বুঝতে পেরেছি যে একদম শূন্য থেকেও ১০০ দিনের মধ্যে প্রতিদিন মাত্র গড়ে ৩ ঘণ্টা সময় দিয়েও ইংলিশ রিডিংয়ের দিকে যে কাউকে দক্ষ করে তুলা সম্ভব। ক্লাস নাইন থেকে এইচএসি পর্যন্ত এই চার বছরে লেখাপড়া করছে প্রায় ৫০ লাখের মত শিক্ষার্থী শুধু বাংলাদেশে। এরপর অনার্স মাস্টার্স মিলে আরো ধরেন ২৫ লাখ তো হবেই। চাকরিজীবী আর বেকার ধরেন আরও ২৫ লাখ। মানে ১ কোটি লোক উপকৃত হতে পারে মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে।

প্রমাণ আপনারা নিজেরাই। যে সাব্জেক্টেই পড়ুক না কেন, যত কাঁচা হোক না ১০০ দিনের মধ্যে ইংলিশ রিডিংয়ের দিকে এতটাই দক্ষ করে তুলা সম্ভব যে ইংরেজি পত্রিকার ১ পৃষ্ঠা ১০ মিনিটে পড়ে অন্তত ৮০% বুঝতে পারবে ১০০ দিনের মধ্যে।

ক্লাসের ইংরেজি বইয়ের ১০ পৃষ্ঠা ১ ঘণ্টার মধ্যে পড়েও ৮০% এর মত বুঝতে পারবে। মানে বিবিএ যারা পড়ছে তাদের বই আমেরিকার হলেও তারা ১ ঘণ্টার মধ্যে ১০ পৃষ্ঠা পড়ে বুঝতে পারবে ইনশাল্লাহ আমার এই গাইডলাইন অনুসরণ করলে।

এর সাথে ইন্টারনেটে যে কোন ওয়েবসাইট পড়তে পারবেন দ্রুত গতিতে। তাই বোকার মত চেষ্টা করলেও এবং স্বল্প মেয়াদে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে দারুণভাবে সাফল্যের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।

‘যত সামনে যাবো তত ফাঁকা মাঠ’- একথা আমি বলি। নিজের বেলাতেও তাই দেখতে পাচ্ছি। ধরেন আপনারা ১০০ জন ৪৪ দিন ধরে রিডিং গাইডলাইন অনুসরণ করছেন। একদম ১০০ জন কিন্তু বলেছেন যে আশাতীত উন্নতি এসেছে মাত্র ৪৪ দিনের মধ্যে। একজনও বলেন নি যে ৪৪ দিন সময় দিলাম কিন্তু তেমন লাভ হল না।

অর্থাৎ আমি এমন কিছু করতে পেরেছি যাতে সাফল্যের হার ১০০%। বোকা হলেও এটি অনেক বড় লাভ, আনন্দের বিষয়।

১০০ দিনের রিডিং গাইডলাইনটি পড়া যাবে এই লিংকে

(রাজীব আহমেদ-এর ফেসবুক পেজ থেকে. . .)

লেখক : ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি, ‘সার্চ ইংলিশ’ এবং  ‘ডিজিটাল স্কিলস ফর বাংলাদেশ’ গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...