বন্ধ হচ্ছে না অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট

টেকভয়েস২৪ ডেস্ক :: যারা অবৈধ মোবাইল ফোন সেট তৈরি, আমদানি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং দেশে ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের মাধ্যমে এই খাতে সুশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, দেশের সব মোবাইলের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এবার হলো মোবাইল ফোন সেটের নিবন্ধন। আমরা চেয়েছি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী যেন নিরাপদে তার হ্যান্ডসেট, সিমটি ব্যবহার করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভার্চুয়াল ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব এসব কথা বলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মোস্তাফা জব্বার। আর এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণ যেন ভোগান্তির শিকার না হয় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি ও অপারেটররা একাট্টা হয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আজকে থেকেই অনিবন্ধিত ফোন বন্ধ করা হবে না। এটি অন্তর্বতিকালীন কার্যক্রম। আরো অনেক পরে কোনটা বন্ধ হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এনইআইআর সিস্টেম চালু দেশের জন্য একটি মাইলফলক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা ব্যক্তি, সমাজ, দেশকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন তাদের জন্য এটি একটি হাতিয়ার। সাম্প্রতিককালে দেশে অপরাধের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তারমধ্যে অনলাইনও আছে। এটার ক্ষেত্র সীমাহীন। ফলে এই বিষয়টিতে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

এই সেবার মাধ্যমে বিশ্বে নজির স্থাপনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যবহৃত ফোনগুলো নিবন্ধনের আওতায় নিতে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে যেসব মোবাইল সেট চালু ছিল, সেগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিটি সিম ধরে ধরে নিবন্ধন করতে হবে। কোনওভাবেই যেন কোনও মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে সবাইকে মন্ত্রী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এনইআইআর সিস্টেমে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও সিম নম্বরের (এমএসআইএসডিএন) সঙ্গে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই সম্পৃক্ত করে নিবন্ধন করা হবে। এটির উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। কারিগরি বাস্তবায়ন করছে সিনেসিস আইটি।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, এটি চালু হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। লেনদেনে স্বচ্ছতা আসবে। দেশের সাইবার অপরাধ কমে যাবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাও ফিরে আসবে।

স্বাগত বক্তব্য দেন স্পেক্ট্রাম বিভাগের কমিশনার এ কে এম শাহীদুজ্জামান। এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন একই বিভাগের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল মো. শহিদুল আলম। তিনি বলেন, কোনও সেট বন্ধ হবে না। ১ জুলাই থেকে সেট চালু করলে তা নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। গ্রাহককে মেসেজ দিয়ে জানানো হবে সেটটি বৈধ না অবৈধ। তারপর সেটটি বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। অবৈধ হলেও সেট তিন মাস চালু থাকবে। তারপর সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তিনি জানান, ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব মোবাইলের ডাটা মাইগ্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ৩০ জুনের মধ্যে নেটওয়ার্কে চালু থাকা সব মোবাইল ফোনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তারা কিভাবে এনইআইএর বাস্তবায়ন করছেন তা তুলে ধরে বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, রবি ও সিনেসিস আইটি প্রতিনিধিরা।

অপারেটরদের পক্ষ থেকে শুরুতে বক্তব্য দেয়া রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিফোন অপারেটর টেলিটক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাব উদ্দিন জানান, আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ তারাও এই প্রক্রিয়ার অংশীদার হবেন।

বক্তব্যে এই কার্যক্রমকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে দিনটিকে আনন্দের ও উৎসবের বলে মন্তব্য করেন গ্রামীণফোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির আজমান।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে সংস্থাটির উপ-পরিচালক জাকির হোসেন খান। অনুষ্ঠানে বিটিআরসি ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত কুমার রায় ছাড়াও সংস্থার কমিশনার ও মহাপরিচালকরা এবং বিটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. রফিকুল মতিন ও মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব মহাসচিব এসএম ফরহাদ সংযুক্ত ছিলেন।

image_printপোস্টটি প্রিন্ট করতে ক্লিক করুন...